হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে নামল ধস। লাল বলে সুইং ও মুভমেন্টের অসাধারণ প্রদর্শনে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করে ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশের এই পেসার। তাঁর বিধ্বংসী স্পেলের সামনে অস্ট্রেলিয়া থেমেছে মাত্র ১৯৮ রানে।

এই পারফরম্যান্সে ইতিহাসও গড়েছেন হাসান। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে পাঁচ উইকেট নেওয়া প্রথম বাংলাদেশি বোলার হয়েছেন তিনি। ক্যারিয়ারে এটি তাঁর তৃতীয় পাঁচ উইকেটের কীর্তি।

Advertisement

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা অবশ্য সতর্কই ছিল অস্ট্রেলিয়ার। তবে হাসান ও ইবাদত হোসেনের নিখুঁত লাইন-লেন্থে শুরু থেকেই চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। দ্বাদশ ওভারে জ্যাক ওয়েদারেল্ডকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়ে প্রথম আঘাত হানেন হাসান।

পানি পানের বিরতির পর আবারও হাসানের আঘাত। এবার শিকার ট্রেভিস হেড। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকা হেডকে অ্যারাউন্ড দ্য উইকেট থেকে বল করে বিভ্রান্ত করেন হাসান। শেষ পর্যন্ত বল স্টাম্পে টেনে এনে বোল্ড হন হেড। ৩৯ বলে ২২ রান করে ফেরেন তিনি।

এরপর ইবাদত ও তাসকিন আহমেদের আঘাতে অস্ট্রেলিয়ার ওপর চাপ আরও বাড়ে। দ্বিতীয় সেশনে স্টিভ স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারির প্রতিরোধ ভাঙেন ইবাদত। পরে বো ওয়েবস্টারকে দুর্দান্ত ডেলিভারিতে ফিরিয়ে দেন তাসকিন।

অস্ট্রেলিয়ার লোয়ার অর্ডারেও কোনো স্বস্তি দেননি হাসান। মিচেল স্টার্ক ও প্যাট কামিন্সকে ফিরিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত স্মিথসহ অস্ট্রেলিয়ার শেষ সারির ব্যাটারদেরও একে একে ফিরিয়ে ইনিংস গুটিয়ে দেন এই পেসার।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৭১ রান করেন স্টিভ স্মিথ। তবে হাসানের বিধ্বংসী স্পেল, ইবাদতের প্রত্যাবর্তন এবং তাসকিনের গুরুত্বপূর্ণ দুই উইকেটে মাত্র ১৯৮ রানেই শেষ হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস।

হাসানের ৬ উইকেটই শুধু বাংলাদেশের বোলিংকে শক্তিশালী করেনি, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের জন্য লিখে দিয়েছে নতুন এক ইতিহাস।