ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩-আসনের সংসদ সদস্য, বিএনপির নির্বাহী কমিটির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক, জেলা বিএনপির সভাপতি ও জাতীয় সংসদে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ জাতি কখনো ভুলবেনা। তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বৈষম্যমুক্ত সমাজ, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠাই হবে তাদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।
তিনি বুধবার সকাল ১১টায় শহরের সুর স¤্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে “জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস” উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।
জেলা প্রশাসক মোঃ আবুসাঈদেও সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এমপি আরো বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন, এবং এই ফ্যাসিবাদ থেকে দেশকে মুক্ত করেছেন, তাদের এই আন্দোলন জাতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি সুন্দর বাংলাদেশ এই জাতিকে উপহার দেয়ার জন্য কাজ কওে যাচ্ছেন। আগামীতে কোন ফ্যাসিবাদ যেন এই বাংলাদেশে আর গড়ে উঠতে না পারে, সেজন্য তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে রাষ্ট্র এবং সমাজ সব সময় থাকবে। নতুন প্রজন্মেও কাছে জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, পুলিশ সুপার শাহ মোঃ আবদুর রউফ, সিভিল সার্জন ডা. মোঃ নোমান মিয়া, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শরিফুল ইসলাম, জেলা জাময়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মোবারক হোসেন, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, খেলাফত মজলিশের সভাপতি মাওলানা মুহসিনুল হাসান, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আমিনুল ইসলাম এবং জেলা এনসিপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী আমিনুল হক চৌধুরী প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাই আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়ন, শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন এবং দায়ীদের বিচারের দাবি জানান।
আলোচনা সভা শেষে জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবার ও আহতদের ফুলেল শুভেচ্ছা এবং সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তাগন, জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত আন্দোলনকারী এবং জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বুধবার সকাল ১০টায় পৌর আধুনিক সুপার মার্কেটের সামনে অবস্থিত “জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে” পুষ্পস্তবক অর্পন করে শহীদ প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ জনগন।