সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার চারটি খেয়াঘাটে সরকারি/নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। মিয়ারচর, বিনাকুলী, লাউড়েরগড় ও বড়উপটিলাগাঁও খেয়াঘাটে নির্ধারিত ভাড়ার পরিবর্তে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) তাহিরপুর উপজেলার রতনশ্রী এলাকার বাসিন্দা সাইমন আখঞ্জী জেলা পরিষদের প্রশাসকের কাছে এ আবেদন করেন। আবেদনে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ, জনগণকে নির্ধারিত ভাড়ায় পারাপারের সুযোগ দেওয়া এবং অতিরিক্ত আদায় করা অর্থের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

আবেদনে বলা হয়, জেলা পরিষদের অধীন এসব খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ নদী পারাপার করেন। স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য খেয়াঘাটগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ রয়েছে, খেয়াঘাটগুলোতে নির্ধারিত জনপ্রতি ৪ টাকা ভাড়ার পরিবর্তে দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের কাছ থেকে ১০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। এতে প্রত্যেক যাত্রীর কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ৬ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

আবেদনকারীর দাবি, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চারটি খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। সে হিসাবে জনপ্রতি অতিরিক্ত ৬ টাকা আদায় করা হলে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিখিত আবেদনে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় হয়ে থাকলে এর পরিমাণ বড় অঙ্কে দাঁড়াতে পারে। তবে কোনো ব্যক্তি বা ইজারাদারকে পূর্বানুমানভিত্তিকভাবে অভিযুক্ত না করে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

আবেদনে জেলা পরিষদের ইজারা চুক্তিতে নির্ধারিত ভাড়া, ইজারাদারের দায়িত্ব এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে কোনো বিধান রয়েছে কি না—তা জনগণের কাছে পরিষ্কার করারও দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে কোনো যাত্রী নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য না হন, সে জন্য কঠোর নজরদারি ও অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানানো হয়েছে।

জনস্বার্থে আবেদনে চারটি খেয়াঘাটে দ্রুত নির্ধারিত জনপ্রতি ৪ টাকা ভাড়া কার্যকর করা, দৃশ্যমানভাবে ভাড়ার তালিকা টানিয়ে দেওয়া, নিয়মিত তদারকি করা এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।

আবেদনকারী বলেন, সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে কোনো ইজারা ব্যবস্থা পরিচালিত হওয়া উচিত নয়। জনগণ যেন কোনো হয়রানি ছাড়াই নির্ধারিত ভাড়ায় নিরাপদে নদী পারাপার করতে পারেন, সেটিই তার মূল দাবি।

এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনসাধারণকে নির্ধারিত ভাড়ায় খেয়াঘাট পারাপারের নিশ্চয়তা দিতে জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আবেদনকারী।