চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার ভোলদিঘী বাজারে এক অভিনব ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ওষুধের প্যাকেটের ভেতর বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৩৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ। জব্দকৃত এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ৮ হাজার টাকা। এ ঘটনায় জড়িত প্রধান অভিযুক্ত নারী পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারেন, ভোলদিঘী বাজারের ‘গাজী স্টোর’-এ ওষুধের কার্টুন বা প্যাকেটের ভেতরে ইয়াবা লুকিয়ে তা বিদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

এই তথ্যের ভিত্তিতে ওসির নির্দেশনায় ডিউটিরত এসআই (নিঃ) মোহাম্মদ আল আমিন ভূঁইয়া সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে তল্লাশি শুরু করেন।

তল্লাশির সময় ‘ফিনিক্স-২০’ ও ‘র‌্যাবিপ্রাজল সোডিয়াম বিপি ২০ মিলিগ্রাম’ নামের দুটি ওষুধের প্যাকেট থেকে মোট ১৮টি পাতায় রক্ষিত ৩৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি পাতায় ২০টি করে ইয়াবা সাজানো ছিল। পরে পুলিশ আলামত হিসেবে মাদকগুলো জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশে অবস্থানরত আরিফ হোসেনের স্ত্রী রুনা আক্তার গত শনিবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে ভোলদিঘী বাজারের ‘হাক্কানী ট্রেডার্স’-এর পরিচালক এনায়েত হোসেনের কাছে একটি লাল-নীল রঙের শপিং ব্যাগ দেন। ওই ব্যাগে স্কচটেপে মোড়ানো প্যাকেটটি মালড়া গ্রামের রাশেদ নামের এক ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল।
তবে প্যাকেটটির অস্বাভাবিক ও নড়বড়ে গঠন দেখে ব্যবসায়ী এনায়েত হোসেনের সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয় লোকজনকে সাক্ষী রেখে এবং পুরো বিষয়টি ভিডিও ধারণ করে তিনি প্যাকেটটি খুলে দেখেন। প্যাকেটের ভেতর ওষুধের পরিবর্তে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা দেখতে পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি শাহরাস্তি থানা পুলিশকে অবহিত করেন।

ঘটনার টের পেয়ে অভিযুক্ত রুনা আক্তার সঙ্গে সঙ্গেই আত্মগোপনে চলে যান। তাকে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

এ বিষয়ে শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে পুলিশের নিয়মিত অভিযান চলছে। মাদকের কারবার বা পাচারের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। খুব দ্রুত পলাতক আসামিকে আইনের আওতায় আনা হবে।