জামালপুরের ইসলামপুর ব্রহ্মপুত্র নদে তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভয়াবহ ভাঙ্গনে উপজেলার চর গোয়ালিনী ইউনিয়নের লক্ষীপুর ঘোনাপাড়া ও দক্ষিণ পাড়া এলাকায় মুহূর্তেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতভিটা, আবাদি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা।

উপজেলার চর গোয়ালিনী ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর তীব্র ¯্রােতে গত কয়েকদিন ধরে ভাঙনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিনিয়ত চোখের সামনেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে শত বছরের স্মৃতি জড়ানো ভিটেমাটি ও ফসলি জমি। ইতোমধ্যে অনেক পরিবার তাদের শেষ সম্বল ঘরবাড়ি ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিলেও রাতের আধারে কয়েকটি পরিবারের বসতবাড়ী মুহুর্তেই নদীর গর্ভে চলে যাওয়ায় শুধু নিজেদের রক্ষা করতে পেরেছে। ভাঙ্গন কবলিত পরিবারগুলো সব কিছু হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে অসহায় ভাবে দিনাতিপাত করছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তীব্র ভাঙন অব্যাহত থাকায় নদীপারের বিস্তীর্ণ জনপদ এখন সম্পূর্ণ বিলীনের পথে। ভাঙনের মুখে পড়া পরিবারগুলোর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই খোলা আকাশের নিচে বা অন্যের জমিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন। অবিলম্বে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা না হলে পুরো ইউনিয়ন মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মোঃ জোবায়ের জানান,ইতিমধ্য আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একাধিক বার অবহিত করেছি। এছাড়াও ভাঙ্গন কবলিত এলাকা খোঁজ খবর রাখছি। আশা রাখছি দ্রুত সময়ের মধ্যই ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুজ্জামান খান জানান, নদীভাঙন কবলিত এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে ইতিমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় জিও ব্যাগ ফেলা বা অন্যান্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।
এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত ও ভূমিহীন পরিবারগুলোকে দ্রুত পুনর্বাসনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি ভাঙন রোধে তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত ও হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।