চাঁদপুর শহরজুড়ে ব্যাটারিচালিত ও মোটরচালিত অটোরিকশা পরিচালনার লাইসেন্স ব্যবস্থাপনায় চরম অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শহরে চলাচলকারী শত শত অটোরিকশার ক্ষেত্রে এক অদ্ভুত সিন্ডিকেট লক্ষ্য করা যাচ্ছে—যেখানে গাড়ির মালিক একজন, লাইসেন্সের প্রকৃত ধারক অন্যজন এবং গাড়িটি চালাচ্ছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ব্যক্তি। এই ত্রিমুখী জটিলতার কারণে একদিকে যেমন পরিবহন খাতে জবাবদিহির সংকট তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে চরম ঝুঁকিতে পড়েছে যাত্রী নিরাপত্তা এবং ভেঙে পড়ছে ট্রাফিক শৃঙ্খলা।
জানা যায়, অনেক লাইসেন্সধারী ব্যক্তি নিজেরা অটোরিকশা পরিচালনা না করে এটিকে লাভজনক ব্যবসার মাধ্যম বানিয়ে ফেলেছেন। তারা দৈনিক বা মাসিক চুক্তির নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে অন্যদের কাছে লাইসেন্স ভাড়া বা লিজ দিয়ে থাকেন। পরবর্তীতে সেই লাইসেন্স ব্যবহার করে ভিন্ন মালিকের অটোরিকশা সড়কে নামানো হয় এবং তা চালান তৃতীয় আরেকজন চালক।
মাঠপর্যায়ে কথা বলে জানা যায়, শহরের বহু লাইসেন্স বর্তমানে দৈনিক চুক্তিতে হাতবদল হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চালক জানান, ওপেন লাইসেন্স বা অন্যের লাইসেন্স ব্যবহার করে গাড়ি চালাতে প্রতিদিন প্রায় ১৫০ টাকা পর্যন্ত লাইসেন্সধারীকে দিতে হয়। এছাড়া অনেকেই আবার মাসিক চুক্তির ভিত্তিতে লাইসেন্স ভাড়া নিয়ে কোনো রকমে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
এ বিষয়ে সাধারণ যাত্রী ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে, এই অনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার কারণে চালকদের সঠিক পরিচয় ও বৈধতা যাচাই করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে সড়কে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে, ট্রাফিক আইন অমান্য করা হলে কিংবা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হলে প্রকৃত অপরাধী বা দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে শনাক্ত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্যও দুরূহ হয়ে পড়ছে।
এমতাবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গাড়ির প্রকৃত মালিক, লাইসেন্সধারী এবং নিয়মিত চালকের সমুদয় তথ্য একত্রিত করে একটি আধুনিক ও হালনাগাদ ডিজিটাল ডেটাবেস প্রস্তুত করা এবং নিয়মিত যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।
একই সঙ্গে লাইসেন্স অন্য ব্যক্তির কাছে ভাড়া দেওয়া বা হাতবদল করার মতো বেআইনি কার্যক্রম কঠোরহস্তে দমন করা, লাইসেন্সের অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আইনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি ও ট্রাফিক বিভাগের সাঁড়াশি অভিযানের মাধ্যমে চাঁদপুর শহরের অটোরিকশা খাতে দ্রুত শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।