চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল লঞ্চঘাট এলাকায় মেঘনা নদী ও এর তীরবর্তী সরকারি অংশ জবরদখল করে গড়ে উঠেছে দুটি অবৈধ হোটেল।

কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন, পরিবেশগত ছাড়পত্র কিংবা বিআইডব্লিউটিএ-এর অনুমতি ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে একটি হোটেল বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে, আর অন্যটির বিশাল পরিসরে নির্মাণকাজ চলছে প্রকাশ্যে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়লেও স্থানীয় প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে দেখা যায়, ষাটনল ইউনিয়ন পরিষদের লঞ্চঘাটসংলগ্ন এলাকার গ্যাংওয়ের দক্ষিণ পাশে প্রায় এক বছর ধরে নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে ‘জলবিলাস’ নামের একটি হোটেল। প্রতিদিন বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এখানে পর্যটকদের ভিড় জমে, যার একটি বড় অংশে থাকে তরুণ-তরুণীদের আনাগোনা। অন্যদিকে, গ্যাংওয়ের উত্তর পাশে আরও বড় পরিসরে গড়ে তোলা হচ্ছে ‘হাওয়া বদল’ নামের অপর একটি হোটেল।

নদীর জায়গা দখল করে অবৈধভাবে হোটেল নির্মাণের বিষয়ে জানতে ‘জলবিলাস’ হোটেলে গিয়ে মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। সেখানকার কর্মচারীরাও মালিকদের যোগাযোগের নম্বর দিতে অস্বীকৃতি জানান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই হোটেলটির অন্যতম অংশীদার স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল পাটওয়ারী।

এদিকে, ‘হাওয়া বদল’ হোটেলের নির্মাণকাজের দায়িত্বে রয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য জসিম দেওয়ান। তিনি বলেন, আমি শুধু নির্মাণের দেখভাল করছি, আর প্রশাসনিক ও কাগজপত্রের বিষয়গুলো সামলাচ্ছেন ইঞ্জিনিয়ার আল-আলিম ও অ্যাডভোকেট ইমরান। হোটেলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অন্যতম অংশীদার অ্যাডভোকেট আল-আমিন বলেন, এটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি এবং নদীর কোনো অংশ দখল করা হয়নি, অনুমোদনের কাগজপত্র প্রস্তুতের প্রক্রিয়া চলছে।

ষাটনল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলম সরকার বলেন, ‘জলবিলাস’ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কোনো ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছে কি না তা তাঁর জানা নেই। তবে ‘হাওয়া বদল’ কর্তৃপক্ষ ট্রেড লাইসেন্সের জন্য আবেদন করলেও তা এখনো অনুমোদিত হয়নি।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চাঁদপুরের বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, নদীর জায়গা দখল করে এ ধরনের স্থাপনা তোলার কোনো আইনি সুযোগ নেই। বিআইডব্লিউটিএ এই দুই হোটেলের কাউকে কোনো ধরনের অনুমতি দেয়নি এবং এ সংক্রান্ত কোনো আবেদনও জমা পড়েনি। স্থানীয় প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা নিলে বিআইডব্লিউটিএ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলে জানানো হয়।

নদী ও তীরভূমির মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সম্পত্তি এভাবে দখল হয়ে যাওয়ার পরও কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপের অভাবে স্থানীয়দের মধ্যে নদী দখলের প্রবণতা আরও তীব্র আকার ধারণ করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।