ময়মনসিংহের ত্রিশালে খাল খনন করে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় না হওয়ায় রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিলেণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী। গত ২৩মে ত্রিশাল উপজেলার ধরার খালের খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ৩১০০ মিটার খালের কাজ সমাপ্তির পর অতিরিক্ত টাকা থাকায় তা ফেরত দেয়া হয় বলে জানান ইউএনও।

জানাযায় উপজেলার বইলর ইউনিয়নে ধরার খাল পুনঃখনন কার্যক্রম প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের ভিত্তিতে ৩১০০ মিটার খাল খননে বরাদ্ধ হয় ৬৫ লক্ষ টাকা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয়ের অধীনে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে এ কাজ বাস্তবায়ন করা হয়।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানাযায় উপজেলা বইলর ইউনিয়নের ঠনিভাংগা বিল থেকে শুরু হয়ে কাঠাল, বইলর, কানহর, হদ্দেরভিটা হয়ে বোকিবিল পর্যন্ত ৩১০০ মিটার লম্বা খাল দখলমুক্ত করে পুনরায় পানির প্রবাহ চলমানের জন্যে খাল খনন কার্যক্রম চলতি বছরের ২৩মে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২ মে থেকে খননের কাজ শুরু হয়ে শেষ ৩০শে জুন। এরমধ্যে খালের দুপাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ,সরকারী হালট অনুযায়ী খাল খনন, পাড় বাধাই করা ও খালের দুপাশে বৃক্ষরোপন কাজ সমাপ্ত করা।

খনন কাজ সমাপ্তির পর গত ১০ই জুলাই বৃক্ষরোপন কাজের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন। প্রাক্কালন অনুযায়ী সকল কাজ সমাপ্ত ও বিল প্রদানের পর বরাদ্ধকৃত ৬৫ লক্ষ টাকা মধ্যে ৪৮ লক্ষ ৫০ হাজার মধ্যে সকল কাজ সম্পন্ন হয়। উদ্বৃত ১৬ লাখ ৫০ হাজার খরচ না হওয়ায় অতিরিক্ত টাকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ফেরত প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, আমরা সরকারী হালট অনুযায়ী যেটুকু খনন করা প্রয়োজন তা সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করেছি। ৩১০০ মিটার খালে ১০ফুট গভীর করে ১৫ থেকে ২৩ ফুট প্রসস্থ করে খনন করেছি। খনন শেষ করে বৃষ্টি হওয়ায় একাধিকবার পাড় বাধাই করে দুপাশে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরোপন করেছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, এই খালটি ১৯৭৯ সালের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রথম খনন করেন। কালের পরিক্রমায় দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় অকেজো ছিলো। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহনের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গত ২৩শে মে এই কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এ প্রকল্পে মোট বরাদ্ধ ৬৫ লাখ থাকলেও সম্পুর্ন টাকা খরচ হয়নি। বিভিন্ন স্থানে প্রসস্থতা কম বেশী থাকায় পুরো কাজ সম্পন্ন করে ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা সাশ্রয় হয়। আমরা এই অতিরিক্ত টাকা সরকারী সংশ্লিষ্ট ফান্ডে ইতিমধ্যে জমা দিয়েছি। কাজ সমাপ্তির পর গত ১০ই জুলাই পরিদর্শন শেষে বৃক্ষরোপন রোপন উদ্বোধন করেন ও কাজের সমাপ্তিতে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেন।