ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চর ঈশ্বরদীয়া এলাকায় জমি এওয়াজ-বদল (পারস্পরিক বিনিময়) নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা, জমি দখলের চেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার আদালতে দুটি মামলা দায়ের করেছে এবং নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
ভুক্তভোগী মঞ্জুরুল হকের অভিযোগ, গত ১৪ এপ্রিল ১৯৯০ সালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এবং উভয় পক্ষের সম্মতিতে প্রতিপক্ষ আব্দুর রহমান, আব্দুল করিম ও আব্দুল খালেকের মা শহর বানুর সঙ্গে ফজরউদ্দীনের ২০ শতাংশ জমির এওয়াজ-বদল হয়। চুক্তি অনুযায়ী উভয় পক্ষ নিজ নিজ জমির দখল গ্রহণ করে এবং প্রায় ৩৫ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছিল।
তার দাবি, সম্প্রতি আব্দুল করিম, আব্দুল খালেকসহ কয়েকজন পূর্বের চুক্তি অস্বীকার করে ওই জমি পুনর্দখলের চেষ্টা করছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৬ জুলাই প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জমিতে প্রবেশ করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করে। এ সময় প্রায় ৫০০টি কলাগাছ কেটে ফেলা হয় এবং মঞ্জুরুল হকের দাবি করা ৩৪ শতাংশ জমিতে জোরপূর্বক বালু ফেলার চেষ্টা করা হয়। পরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে তিনি দাবি করেন।
এ ছাড়া বুধবার (২২ জুলাই) সকালে মঞ্জুরুল হকের পথরোধ করে তার ওপর হামলার অভিযোগও করা হয়েছে।
মঞ্জুরুল হক বলেন, “আমরা আইনগতভাবে এওয়াজ-বদল সম্পন্ন করেছি এবং দীর্ঘদিন ধরে জমি ভোগদখল করে আসছি। এখন জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা এবং পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এতে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
স্থানীয় বাসিন্দা বুলবুল আহমেদ ও মাসুদুর রহমান বলেন, এলাকাবাসীর কাছে জমি এওয়াজ-বদলের বিষয়টি পরিচিত। তাদের মতে, বর্তমান বিরোধের শান্তিপূর্ণ ও আইনগত সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পক্ষ ময়মনসিংহের ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে অন্য প্রকার মোকদ্দমা নং ০১/২০২৬ এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সদর মোকদ্দমা নং ৮৯৩/২০২৬ দায়ের করেছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, বিরোধপূর্ণ জমিটি এসএ খতিয়ান নং ১৩১৯, বিআরএস খতিয়ান নং ১৫১৫, সাবেক দাগ নং ৫৩ এবং বিআরএস দাগ নং ১৪৭-এর অন্তর্ভুক্ত। মোট ১ একর ১৭ শতাংশ জমির মধ্যে ২০ শতাংশ জমিকে কেন্দ্র করে এ বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আব্দুল করিম ও আব্দুল খালেকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আশরাফুল করিম বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।”