চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সন্তোষপুর ডিএস দাখিল মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন নিয়ে উঠেছে চাঞ্চল্যকর অনিয়মের অভিযোগ। প্রতিষ্ঠানের মাদ্রাসাসুপার আবুল হাসান সাইফুল্লাহর যোগসাজশে বছরের পর বছর ধরে মাধ্যমিক পর্যায়ের খাতা মূল্যায়ন করছেন একজন এবতেদায়ি (প্রাথমিক স্তর) শিক্ষক। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদ্রাসায় দাখিল স্তরের পাঠদানের জন্য যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও সুপার আবুল হাসান সাইফুল্লাহ সচেতনভাবে তাদের তথ্য গোপন করেন। পরিবর্তে মাদ্রাসার এবতেদায়ি স্তরের শিক্ষক সফিকুল ইসলামের নাম সুপারিশ করে তাকে পরীক্ষক হিসেবে বোর্ডের তালিকাভুক্ত করান। এভাবে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে নিয়মবহির্ভূতভাবে মাধ্যমিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করে আসছেন ওই শিক্ষক।

অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসাসুপার আবুল হাসান সাইফুল্লাহর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলে তিনি কোনো আইনগত ভিত্তি দেখাতে পারেননি। উল্টো আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি স্বীকার করেন, “আমি কবিরা গুনাহ করেছি, আমাকে মাফ করে দিন।” তবে কেন এবং কার স্বার্থে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই অনিয়ম করেছেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

​অন্যদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষক সফিকুল ইসলাম দায় স্বীকার করে জানান, সুপারের স্বাক্ষরিত সুপারিশপত্রের মাধ্যমেই তিনি এই কাজ করে আসছেন। খাতা মূল্যায়নের সঠিক নীতিমালা বা যোগ্যতা সম্পর্কে তার স্পষ্ট ধারণা নেই বলেও তিনি দাবি করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা’র ১৮.১ (গ) উপধারা অনুযায়ী, তথ্য গোপন বা জালিয়াতির মাধ্যমে সুবিধা গ্রহণ চরম অপরাধ। এর শাস্তি হিসেবে সংশ্লিষ্টদের এমপিও বাতিলসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে।

​এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এটি এমপিও নীতিমালার বড় ধরনের লঙ্ঘন। বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, “শিক্ষা খাতের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে অনিয়ম বরদাশত করার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে তথ্য গোপনের সত্যতা পাওয়া মাত্রই দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

​অযোগ্য শিক্ষকের হাতে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।