নরসিংদীর শিবপুরে ভাসুরের নির্যাতনের শিকার হয়ে এক গৃহবধূ বিষপানে আত্মহত্যা করার খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে লাশটি উদ্ধার করে শিবপুর মডেল থানা পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরণ করেন।

জানা যায়, উপজেলার বাঘাব ইউনিয়ন এর ব্রাহ্মন্দী গ্রামের আব্দুল গফুরের বড় ছেলে বাদল মিয়া ও ছোট ছেলে আব্দুস সাত্তার এর মধ্যে তাদের মা ও বাবার খাবার দাবার ও ভরণপোষণ নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত দ্বন্দ্ব চলে আসছে।

এরই জের ধরে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো। রবিবার ৫ জুলাই আবারও দুই ভাই এর মধ্যে ঝগড়া হলে, এক পর্যায়ে বাদল মিয়া ছোট ভাই আব্দুস সাত্তার এর স্ত্রী আরিফাকে (২৭) কাঠ দিয়ে মারধর করে। এতে আরিফা মারাত্মক আহত হয়। ঘটনারদিন আব্দুস সাত্তার সৌদি আরব যাওয়ার তারিখ থাকায় সে বিদেশ চলে যায়।

এরপর বিকেলে পূনরায় বাদল আরিফাকে দ্বিতীয় দফায় মারে। আর এই অপমান সইতে না পেরে আরিফা প্রথম তার শিশু সন্তানকে বিষ পান করান এবং নিজে বিষ পান করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে তাদেরকে নিয়ে ঢাকায় হাসপাতলে ভর্তি করা হয় । পরবর্তীতে ৭ জুলাই বিকালে গৃহবধূর মৃত্যু হয়। শিশু সন্তান রিয়াদুল (২০ মাস) ঢাকা শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে দেশে চলে আসেন সাত্তার।

গৃহবধূর স্বামী সাত্তার একজন প্রবাসী। সাত্তারের তিন সন্তানের মধ্য বড় দুটি কন্যা সন্তান তৈয়বা (১০) ও হাফসা (৮), ছেলে রিয়াদুল (২০ মাস) রয়েছে। শিশু সন্তানটি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।

এব্যাপারে শিবপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ কোহিনূর মিয়া বলেন, নিহত আরিফার শরীরের আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। স্বামী আব্দুস সাত্তার মিয়া বাদী হয়ে শিবপুর মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।