দীর্ঘ ১১৫ দিন পারস্য উপসাগরে আটকে থাকার পর অবশেষে হরমুজ প্রণালি সফলভাবে অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তায় থাকা জাহাজটির ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রু সদস্যের জন্য এটি বড় স্বস্তির খবর।
ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পর সোমবার দিবাগত রাত ৩টা ১২ মিনিটে জাহাজটি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।
জাহাজটির প্রধান প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান জানান, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে হরমুজ প্রণালি পার হতে পেরে সবাই স্বস্তি ও আনন্দ অনুভব করছেন। তার ভাষায়, দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার পর এটি যেন মুক্তির স্বাদ।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, জাহাজটি নিরাপদে হরমুজ অতিক্রম করেছে এবং ফুজাইরা বন্দরের জলসীমায় প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রায় ৩৭ হাজার মেট্রিক টন সার বহনকারী জাহাজটির পরবর্তী গন্তব্য দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন ও ডারবান বন্দর।
কীভাবে আটকা পড়েছিল জাহাজটি
‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ গত ২ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে পণ্য নিয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে। পরে কাতার থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়।
তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলার পর পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ‘বাংলার জয়যাত্রা’সহ বহু বাণিজ্যিক জাহাজ সেখানে আটকা পড়ে।
একাধিক ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর মিলল অনুমতি
বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে কয়েকবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে জাহাজটিকে ফিরে আসতে হয়েছিল। সর্বশেষ কয়েকদিন ধরে জাহাজটি প্রণালির কাছাকাছি অবস্থান করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর অনুমতির অপেক্ষায় ছিল।
অবশেষে সোমবার অনুমতি পাওয়ার পর জাহাজটি ঝুঁকিপূর্ণ জলসীমা অতিক্রম করতে সক্ষম হয়।
সরকারের নিবিড় নজরদারি
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, পুরো সময়জুড়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিএসসি জাহাজটির গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক যোগাযোগও বজায় রাখা হয়।