মহুয়া-মলুয়ার দেশ নেত্রকোনা। এখানে নানা ইতিহাস ঐতিহ্য জড়িয়ে রয়েছে। বৃহত্তর ময়মনসিংহের ১৮৫ বছরের পুরোনো কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরীর অবস্থান সুসঙ্গ দুর্গাপুরে। ময়মনসিংহ পরগনার শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে ১৮৪০ খ্রিষ্টাব্দে সুসঙ্গ পরগনার মহারাজা ভূপেন্দ্র চন্দ্র সিংহ শর্ম্ম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরী। নিমজ্জিত হতে যাওয়া পাঠাগারটিকে বাঁচিয়ে রাখতে উদ্দ্যোগ নিয়েছেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

শনিবার (০৪ এপ্রিল) বিকেলে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ঐতিহ্যবাহী কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরী পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সুধিজন সাথে মতবিনিময়কালে প্রধান অতিথি হিসেবে একথা বলেন তিনি।

বৃহত্তর ময়মনসিংহের অনেক আইনজীবী, জ্ঞানীগুনী, সাহিত্যিক সকলেই এই লাইব্রেরীতে আসতেন বই পড়তে। ঐতিহ্যবাহী লাইব্রেরিটি এখন অযতœ অবহেলায় পরে থাকার কারনে স্থানীয় ভূমি খেকোরা পাঠাগারের অধিকাংশ জায়গা বে-দখল করে নিয়েছে। বাউন্ডারী দেয়াল না থাকায় অবকাঠামোগত ক্ষতি হচ্ছে। আসবাবপত্র, চাহিদা মোতাবেক বইক্রয় সহ পাঠাগারের আয়-বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়া হলে অচিরেই হারিয়ে যাবে পাঠাগারটি। বে-দখল হওয়া জায়গা উদ্ধার এবং বাউন্ডারী ওয়াল নির্মান সহ পাঠাগারটি পুনঃ চালু করার জন্য জোর দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

পাঠাগারকে বলা হয় শিক্ষার বাতিঘর। এই পাঠাগারটি যদি আবার সচল হয় তাহলে, স্থানীয় যুবসমাজ উপকৃত হবে। মাদক ছেড়ে বই হাতে নিবে। বাড়বে সাংস্কৃতিক চর্চা। দুর্গাপুর তথা কলমাকান্দা উপজেলার আদিবাসী সম্প্রদায় সহ সকল শ্রেনীপেশার হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবে। সাহিত্যপাঠকদের কথা ভেবে নিভু নিভু অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা পাঠারগারটিকে জাগিয়ে তুলতে এগিয়ে এসেছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে পাঠাগারের বিকল্প নেই। জ্ঞান অর্জনের উৎস হলো বই। বর্তমান মানুষের চিন্তা, চেতনা, গবেষণা জমা হয়ে রয়েছে বইয়ের পাতায় পাতায়। আর বইয়ের সু-শৃঙ্খল সমাবেশ স্থানই হলো পাঠাগার। শিক্ষাক্ষেত্রে এগিয়ে থাকা দেশগুলোতে রয়েছে অনেক সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, তারা শিক্ষার প্রতিটিক্ষেত্রে বিজ্ঞান, শিল্প ও সাহিত্যতে এগিয়ে নিয়েছে। তেমনি আমাদেরও শিল্প সংস্কৃতি তথা যুব সমাজকে এগিয়ে নিতে সমৃদ্ধ পাঠাগারের সহায়তা নিতে হবে।

১৮৫ বছরের পুরোনো এই পাঠাগারের ইতিহাস ঐতিহ্যকে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে স্থানীয় সাংবাদিকদের উদ্দ্যেশ্যে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, আমার মনে হয় এই লাইব্রেরীটি দেশের একমাত্র পুরনো পাঠাগার। এর বিকাশ ঘটাতে আপনারা সহায়তা করুন। সকলের সহযোগিতা পেলে, লাইব্রেরীর জায়গা উদ্ধার সহ সরকারের পক্ষ থেকে কুমার দ্বীজেন্দ্র পাবলিক লাইবেব্রীকে দেশের প্রথম সারির পাঠাগারে পরিনত করা হবে।

এ সময়, নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), নেত্রকোনা জেলা পরিষদের প্রশাসক, স্পিকার মহোদয়ের একান্ত সচিব, শিক্ষা প্রকৌশল দপ্তরের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারি কমিশনার (ভুমি), জেলা ও উপজেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকগণ সহ স্থানীয় সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।