প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের কল্যাণকে কেন্দ্র করে প্রণীত বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে সমালোচনা করছেন, তারা কখনও জনগণের প্রকৃত বন্ধু হতে পারেন না। তিনি দাবি করেন, বর্তমান বাজেটের মূল লক্ষ্য দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

বুধবার (১৭ জুন) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি বাজেট প্রণয়ন করেছে যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং অর্থনৈতিক স্বস্তি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাজেটে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু বিরোধীরা এই বাজেটকে গণবিরোধী আখ্যা দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির অর্থ কোথা থেকে আসবে। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের অর্থ আর পাচার হতে দেওয়া হবে না। রাষ্ট্রের সম্পদ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় করা হবে এবং উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনায় অর্থের সংকট হবে না।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সব চা-বাগানের নারী শ্রমিককে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি সারা দেশে ৪০ লাখ পরিবারের মধ্যে কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে।

স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ের ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যাতে গ্রামীণ জনগণ নিজ এলাকায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে।

বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বিএনপির রাজনীতি মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দেশকে এগিয়ে নেওয়ার রাজনীতি। দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

তিনি আরও জানান, অতীতে যারা অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এখন থেকে অর্থ পাচার রোধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।