দিল্লি বিমানবন্দরে একটি ‘অপ্রীতিকর ঘটনার’ পর দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রীর নীতি ও কৌশলবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। রোববার সন্ধ্যায় ভারতের রাজধানী দিল্লির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই ঘটনা ঘটে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সিএনএন-নিউজ ১৮-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট একটি নজরদারি তালিকায় (ওয়াচলিস্ট) নাম থাকার কারণে ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ডা. জাহেদ উর রহমানকে কিছু সময়ের জন্য আটকে রাখে। রুটিন যাচাইয়ের সময় তার নাম নজরে এলে অতিরিক্ত তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তাকে অপেক্ষা করতে বলা হয়।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ)-এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কমিটির ২৮তম বৈঠকে অংশ নিতে ভারতে যাচ্ছিলেন ডা. জাহেদ উর রহমান। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ১৫ ও ১৬ জুন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল এই বৈঠক।

সূত্রগুলো আরও জানায়, ডা. জাহেদ উর রহমানের কাছে কোনো কূটনৈতিক পাসপোর্ট ছিল না। তিনি সার্ক স্টিকারযুক্ত সাধারণ সবুজ পাসপোর্ট ব্যবহার করছিলেন। তবে তার সফরের বিষয়ে আগেই নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি কূটনৈতিক নোট (নোট ভারবাল) পাঠিয়েছিল।

রোববার বিকেলে তাকে অভ্যর্থনা জানাতে দিল্লি বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ। পরবর্তীতে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে প্রবেশের অনুমতি দেয়।

তবে ঘটনার পর ডা. জাহেদ উর রহমান সফর অব্যাহত না রেখে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানা গেছে। নয়াদিল্লিভিত্তিক একটি সূত্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরও তিনি বৈঠকে অংশগ্রহণ না করে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

দিল্লি থেকে সরাসরি ঢাকাগামী ফ্লাইট না থাকায় তিনি প্রথমে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো যান। সেখান থেকে সোমবার বিকেলে তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

এ ঘটনায় বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে ঘটনাটি কূটনৈতিক মহলে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।