পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট নাশকতার হুমকি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ। তবে সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাতকে ঘিরে নেওয়া নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, “পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট থ্রেট বা নাশকতার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছি।”
তিনি জানান, ঈদ উপলক্ষে রাজধানীসহ সারা দেশে র্যাবের সব ব্যাটালিয়ন নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রধান প্রধান ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে বাড়ানো হয়েছে টহল, মোবাইল চেকপোস্ট ও গোয়েন্দা নজরদারি। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গেও সমন্বিতভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
কালোবাজারি ও ভেজালবিরোধী নজরদারি
ঈদকে ঘিরে বাজার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ঠেকাতেও সক্রিয় রয়েছে র্যাব। বাহিনীটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, কালোবাজারি, অবৈধ মজুত, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, খাদ্যে ভেজাল ও নকল পণ্য বাজারজাতকরণের মতো অপতৎপরতা প্রতিরোধে বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছে।
একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গুজব, উসকানি কিংবা অপরাধমূলক কার্যক্রম ঠেকাতে র্যাবের অনলাইন মনিটরিং কার্যক্রমও সার্বক্ষণিক চালু থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
ছুটিতে ফাঁকা শহরে বাড়ছে নিরাপত্তা টহল
ঈদের ছুটিতে রাজধানী ও বড় শহরগুলো আংশিক ফাঁকা হয়ে পড়ায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ কারণে মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে রাতের টহল ও নিরাপত্তাচৌকির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
র্যাব জানিয়েছে, ঘরমুখো মানুষের যাত্রাপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। মহাসড়ক, বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
র্যাবের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সন্ত্রাসবাদ, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
