দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতের ঘটনায় একদিনেই বাবা-মেয়েসহ অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে টাঙ্গাইল, বরগুনা, পটুয়াখালী, শরীয়তপুর, পিরোজপুর, বরিশাল ও চাঁদপুরে পৃথক ঘটনায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলায়। সেখানে বজ্রপাতে খালিদুর রহমান (২৯) ও তার ১০ বছর বয়সী মেয়ে খাদিজা আক্তারের মৃত্যু হয়েছে। আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে অটোরিকশা থেকে নামার সময় হঠাৎ বজ্রাঘাতে তারা গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বজ্রপাতে খালিদুর রহমানের পকেটে থাকা মোবাইল ফোন ও শরীরের পোশাক পুড়ে যায়।

বরগুনার সদর উপজেলার বুড়িরচর এলাকায় কৃষি জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে নিহত হন কৃষক মহিউদ্দিন (৪০)। হঠাৎ বৃষ্টির মধ্যে জমিতে মাটি কাটার সময় বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে প্রাণ হারান কৃষক মজিবর সরদার (৫০)। একই ধরনের ঘটনায় শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় নিহত হন কৃষক মুছা হাওলাদার (৪৫) এবং পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় মারা যান কৃষক ছোয়ারাব জোমাদ্দার (৫০)। তিনজনই বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর মাঠে থাকা গরু বাড়িতে আনতে গিয়ে বজ্রপাতের শিকার হন।

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় মাছের ঘেরে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে নিহত হন এসএসসি পরীক্ষার্থী তানভীর খান (১৮)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে প্রাণ হারান নবী হোসেন মিজি (২৭)। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, জলাশয়, গাছের নিচে এবং উঁচু স্থানে অবস্থান না করার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।