অর্থনৈতিক চাপে থাকা পাকিস্তানের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে দীর্ঘদিনের মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। আবুধাবি হঠাৎ করে ৩.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ দ্রুত পরিশোধের দাবি জানানোয় ইসলামাবাদের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্র ও বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ কেবল আর্থিক নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক বার্তা। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনায় পাকিস্তানের ‘সতর্ক নিরপেক্ষতা’ এবং মধ্যস্থতার ভূমিকা আমিরাতের অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঋণ ফেরতের এই দাবি পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভে বড় ধাক্কা দিতে পারত। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরব জরুরি সহায়তা হিসেবে ৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়ে এবং বিদ্যমান ৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণের মেয়াদ বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে সহায়তা করে।
বিশ্লেষকদের মতে, আবুধাবির এই অবস্থান ইসলামাবাদের প্রতি ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের প্রতিফলন। ব্রিটিশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান আঞ্চলিক বাস্তবতায় মধ্যস্থতাও এক ধরনের অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা আমিরাত ইতিবাচকভাবে নেয়নি।
এর সঙ্গে সৌদি আরব ও আমিরাতের মধ্যে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিদ্বন্দ্বিতাও বিষয়টিকে জটিল করেছে। পাকিস্তানের সঙ্গে রিয়াদের ঘনিষ্ঠতা আবুধাবির কৌশলগত উদ্বেগ বাড়িয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
যদিও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে ‘নিয়মিত আর্থিক লেনদেন’ হিসেবে উল্লেখ করে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েনের কথা অস্বীকার করেছে, তবে কূটনৈতিক মহলে এ পদক্ষেপকে সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনা উপসাগরীয় অঞ্চলে জোট রাজনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতা সামনে এনেছে। ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তান-আমিরাত সম্পর্কে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস
