মো. মনিরুজ্জামান, ময়মনসিংহ ব্যুরো: ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের শিমরাইল ১ নম্বর মোড়ে পারিবারিক বণ্টনে পাওয়া জমি ও দোকানঘর নিয়ে বিরোধে পড়েছে একটি পরিবার। দোকানঘর ছেড়ে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভাড়াটিয়াদের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিরোধপূর্ণ জমির বায়নাপত্র করার অভিযোগ তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা। তবে জমির মালিকানা ও বণ্টন নিয়ে বিরোধের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা পারিবারিক বণ্টনে পাওয়া ওই সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি দোকানঘরটি সরিয়ে পেছনের পুকুর ভরাট করে সেখানে পাকা দোকান নির্মাণের উদ্যোগ নিলে ভাড়াটিয়াদের দোকান ছেড়ে দিতে বলা হয়। তাঁরা কিছুদিন সময় চাইলেও পরে দোকান ছাড়তে গড়িমসি শুরু করেন। একপর্যায়ে স্থানীয় শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. খলিলুর রহমান বাচ্চুর শরণাপন্ন হন বলে অভিযোগ পরিবারের।
পরিবারের দাবি, ২০২০ সালের ১০ আগস্ট সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নান্দাইল সড়ক উপবিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী দোকানটির একাংশ সওজের জায়গায় পড়েছে উল্লেখ করে তা সরিয়ে নেওয়ার নোটিশ দেন। আর্থিক সংকটের কারণে তাঁরা তখন দোকানটি সরাতে পারেননি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে ওই রাজনৈতিক নেতা জমিতে নিজের স্বার্থ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে তাঁদের চাচা আক্কাস আলীর কাছ থেকে একটি বায়নাপত্র দলিল সম্পাদন করেন। অথচ শিমরাইল মৌজার ২৭০ নম্বর খতিয়ানে আক্কাস আলী তাঁর প্রাপ্য হিস্যার চেয়েও বেশি জমি বিক্রি করে দিয়েছেন বলে দাবি তাঁদের।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা ঈশ্বরগঞ্জের সিভিল জজ আদালতে ২২৯৩/২৬ নম্বর অন্য প্রকার মামলায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন। তবে আদালত আবেদনটি নামঞ্জুর করেছেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা। এতে নিজেদের সম্পত্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা ও ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের।
ভুক্তভোগী ইমন হাসান বলেন, “আমার বাবা পারিবারিক বণ্টনে এই জমি পেয়েছেন। আমরা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে তা ভোগদখল করে আসছি। কিন্তু আমার চাচা আক্কাস আলী গোপনে এক নেতার কাছে জমিটি বায়না করে দিয়েছেন। সবার ভাগে ১ একর ৬৮ শতাংশ জমি পড়ার কথা থাকলেও তিনি ইতোমধ্যে নিজের প্রাপ্য হিস্যার চেয়ে বেশি—প্রায় ১ একর ৮৩ শতাংশ জমি বিক্রি করেছেন বলে আমাদের দাবি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি নেতা মো. খলিলুর রহমান বাচ্চুসহ চারজন তাঁদের বণ্টন ও ক্রয়সূত্রে পাওয়া জমির সীমানার মধ্যে বায়নাপত্র করেছেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন তিনি।
আরেক ভুক্তভোগী বৃষ্টি আক্তার বলেন, তাঁর বাবা মারা গেছেন। চাচাদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে তাঁরা অন্যায়ের অভিযোগ তুলছেন। তাঁর ভাষ্য, চাচা নিজের হিস্যার চেয়ে বেশি জমি বিক্রি করার পরও তাঁদের অংশের জমি বায়না করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে তাঁরা নিজেদের সম্পত্তি হারানোর আশঙ্কা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবু কালাম ও উসমান আলী বলেন, তাঁদের জানা মতে, জমিটি দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগী পরিবার ভোগদখল করে আসছে। তাঁদের অভিযোগ, জমির হিস্যা ও মালিকানা যথাযথভাবে যাচাই না করেই বায়নাপত্র করা হয়েছে। বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান হওয়া প্রয়োজন বলেও মত দেন তাঁরা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মো. খলিলুর রহমান বাচ্চুর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
জমির প্রকৃত মালিকানা, পারিবারিক বণ্টন, পূর্বে বিক্রি করা জমির পরিমাণ এবং বায়নাপত্রের বৈধতা—এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র ও আদালতের নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।