গাজীপুর মহানগরের একটি সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আনোয়ারা এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বাস্তবায়নাধীন সড়কটির কাজে মানসম্মত নির্মাণসামগ্রীর পরিবর্তে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ কাজ বন্ধের নোটিশ দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর শ্মশান পাজুলিয়া সড়ক থেকে চাপুলিয়া বোর্ডের পুকুরের পূর্ব পাশে মোল্লাপাড়া এলাকায় অধ্যাপক ড. সিরাজুল হক মোল্লার বাড়ি পর্যন্ত সড়কটির কার্পেটিং ও সোলিং উন্নয়নকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ১২ ফুট প্রশস্ত ও ৪৫০ মিটার দীর্ঘ সড়কটির জন্য ৮৮ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ রয়েছে বলে সূত্রটি জানায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন পর সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হলেও ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের দাবি, নিম্নমানের ইট দিয়ে সোলিং ও রাস্তার অন্যান্য কাজ করা হলে সড়কটি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলে প্রাথমিকভাবে কাজ বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সিভিল বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী শিহাব বলেন, নিম্নমানের ইট সরিয়ে নিতে ঠিকাদারকে বলা হয়েছিল। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সব ইট সরিয়ে নেননি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, “এগুলো খুবই নিম্নমানের ইট। এসব ইট দিয়ে কাজ করা হলে রাস্তা টেকসই হবে না।”

আরেক বাসিন্দা ফারুক হোসেনের অভিযোগ, “এখানে তিন নম্বর ও নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তার কাজ করা হচ্ছে। বিষয়টি প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের লোকজনকে জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।”

অভিযোগের বিষয়ে মেসার্স আনোয়ারা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী এরশাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “কিছু ইট খারাপ এসেছিল। আমি সেসব ইট সরিয়ে দিয়েছি।”

তবে স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে রোববার সরেজমিনে গিয়ে প্রতিবেদকের দেখা যায়, সড়কের কাজে মাটি ও বালির সঙ্গে নিম্নমানের ইটের খোয়া ভেকু দিয়ে মেশানো হচ্ছিল। এ সময় ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

ঠিকাদার এরশাদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা থাকলেও, তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে নির্মাণকাজে অনিয়ম হয়েছে—এমন দাবির স্বাধীন কোনো প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি। তিনি গাজীপুর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রকল্পের কার্যাদেশ, অনুমোদিত নকশা, প্রাক্কলন ও নির্মাণসামগ্রীর পরীক্ষার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

এদিকে, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার। সিটি করপোরেশনের সরকারি ওয়েবসাইটেও তাঁকে প্রশাসক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কটির নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ইট, বালু ও অন্যান্য উপকরণের গুণগত মান পরীক্ষা, প্রকল্পের প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না তা যাচাই এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তাঁদের মতে, সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত অবকাঠামো নির্মাণে কাজের গুণগত মান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সড়ক নির্মাণকাজের অগ্রগতি ও মান যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগকে নিয়মিত তদারকি করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।