চেয়ারম্যানের অসুস্থতা ও বয়োজ্যেষ্ঠতার সুযোগে জামালপুরের ইসলামপুর চর পুটিমারী ইউনিয়ন পরিষদ সচিব ফারুক মিয়া বিরুদ্ধে অনিয়ম দূর্নীতি ও সেবা গ্রহীতাদের হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে।

জানাগেছে, সরকারের নির্ধারিত ফি’র তোয়াক্কা না করে জন্ম নিবন্ধন তৈরি ও বয়স সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে ১হাজার থেকে ১৫শত টাকা। জন্ম নিবন্ধন,বয়স সংশোধন, বিভিন্ন ভাতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নানা কাগজে ভ’ল ধরিয়ে অতিরিক্ত টাকা দাবী করেন। চাহিদা মত না দিলে দিনের পর দিন মানুষকে হয়রানি তার নিত্যদিনের ঘটনা। এছাড়াও উন্নয়ন সহায়তা বরাদ্দের অর্থ ছাড়েও নেন মোটা অংকের কমিশন। এতে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ ভ’ক্তভোগীদের।

ভুক্তভোগীরা জানান, জন্ম নিবন্ধন নিতে এসে চাহিদা মত টাকা না দিতে পেরে দিনের পর দিন ঘুরছি। চাহিদা মত টাকা দিলে সব সংশোধন করে দেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইউপি সদস্য বলেন, ৭ অক্টোবর ২০২১ তারিখে চরপুটিমারী ইউনিয়ন পরিষদে সচিব মোঃ ফারুক মিয়া যোগদানের পর থেকেই সেবা গ্রহীতাদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার ও অনিয়ম শুরু করেন। চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন না দিলে প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বিলের ফাইল আটকে রাখেন। ৫ই আগস্টের পূর্ববর্তী সময়ে বাস্তবায়িত সরকারের ‘৪০ দিনের কর্মসংস্থান কর্মসূচি’প্রকল্পে জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দরিদ্র শ্রমিকদের নামে বরাদ্দকৃত টাকা উত্তোলনের মোবাইল সিম নিজের হেফাজতে রাখতেন সচিব। পরে ভুয়া মাস্টার রোলের মাধ্যমে শ্রমিকদের অগোচরে সেই টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন।

চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শামসুজ্জামান সুরুজ মাষ্টার বয়োজ্যেষ্ঠ ও শারিরীক ভাবে গুরুতর অসুস্থ হওয়ার সুযোগ নিয়ে চেয়ারম্যানকে না জানিয়ে এবং অনেক ক্ষেত্রে ভুল বুঝিয়ে বিভিন্ন নথিপত্রে সই করিয়ে অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন সচিব। দুর্নীতি ও অসাধু কর্মকান্ডের ক্ষোভে ইতোপূর্বে একাধিকবার ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তার ওপর চড়াও হন এবং হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলেও জানান ইউপি সদস্যরা।

সচিবের কারণে পরিষদে সাধারণ মানুষের সেবার পরিবর্তে হয়রানি ও দুর্নীতির রাজত্ব কায়েম হয়েছে। তার অপকর্ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত অপসারণ দাবি জানান ইউপি সদস্য সহ ভুক্তভোগীরা।

চরপুটিমারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শামসুজ্জামান সুরুজ মাষ্টার বলেন, আমার পরিষদের সচিব দূর্নীতিবাজ আমি তার যোগদানের পর থেকেই পরিষদে একাধিকবার বৈঠক করে তাকে প্রাথমিক ভাবে শাসন করেছি। কিন্তু সে কাউকে তোয়াক্কা না করে অনিয়ম করেই চলছে।

অভিযুক্ত ইউপি সচিব মোঃ ফারুক মিয়া বলেন, অভিযোগ গুলো মিথ্যা। এসব বিষয়ে আমি সম্পৃক্ত না।

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ জুবায়ের এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন -আমি এ উপজেলায় নতুন এসেছি। তেমন ভাবে কারও সম্পর্কে জানিনা । তবে সচিবের বিরুদ্ধে আপনার কাছে যে অনিয়মের কথা শুনলাম তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।