মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রোগীদের জন্য সরকারি বরাদ্দের খাবার সরবরাহে অনিয়ম, নিম্নমানের খাদ্য বিতরণ এবং বাজারদরের তুলনায় অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে সরকারি অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে। রোগী, স্থানীয় বাসিন্দা ও হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এসব অভিযোগ তুলেছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনো কোনো স্বাধীন তদন্ত সম্পন্ন হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের সরকারি খাদ্যতালিকায় উল্লেখিত পরিমাণের তুলনায় রোগীদের দেওয়া মাছ ও মাংসের পরিমাণ কম বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি খাদ্য সরবরাহ নির্দেশিকা অনুযায়ী একজন রোগীর জন্য নির্ধারিত পরিমাণে মাছ বা মাংস সরবরাহের কথা থাকলেও, হাসপাতালের রান্নাঘরে প্রস্তুত করা মাছ ও মাংসের টুকরাগুলোর ওজন তুলনামূলক কম দেখা গেছে বলে প্রতিবেদকের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

খাবারের মান নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন রোগী অভিযোগ করেন, নিয়মিত টাটকা সবজির পরিবর্তে পুরোনো সবজি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সপ্তাহের অধিকাংশ দিন একই ধরনের সবজি পরিবেশন করা হয়। তাঁদের অভিযোগ, নিম্নমানের চাল দিয়ে রান্না করা ভাতও পরিবেশন করা হচ্ছে।

সকালের নাশতার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন অসংগতি পাওয়া গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সরবরাহকৃত পাউরুটিতে উৎপাদন বা মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ ছিল না বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডিম, কলা ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের মূল্য বাজারদরের তুলনায় বেশি দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাসপাতালের খাদ্য সরবরাহ তালিকায় চাল, ডাল, সয়াবিন তেল, মাছ, মুরগি, আলু, পেঁয়াজ ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের যে মূল্য উল্লেখ রয়েছে, তা স্থানীয় বাজারমূল্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। তবে সরকারি ক্রয়মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে পরিবহন, সরবরাহ, চুক্তির শর্ত ও অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয় যুক্ত থাকতে পারে—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জোহা এন্টারপ্রাইজের লাইসেন্স ব্যবহার করে আদিল ট্রেডার্স হাসপাতালের রোগীদের খাবার সরবরাহের কাজ পায়। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, বাস্তবে খাবার সরবরাহ কার্যক্রম অন্য একজনের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সরকারি কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।

খাবার সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত সাফায়েত বলেন, “খাবারের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমি শুধু খাবার পৌঁছে দিই।”

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, “রান্নায় পুরোনো সবজি ব্যবহার এবং মাছ ওজনে কম দেওয়ার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সরবরাহকারীদের কারণে এ ধরনের সমস্যা হয়েছে। আমরা নিয়মিত মনিটরিংয়ের চেষ্টা করি, তবে চিকিৎসকদের ব্যস্ততার কারণে সব সময় তা সম্ভব হয় না। ভবিষ্যতে তদারকি আরও জোরদার করা হবে, যাতে নিম্নমানের বা ওজনে কম খাবার সরবরাহ না করা হয়।”

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী রোগীরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং সরকারি বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন।