দীর্ঘ তিন দিন ঘরেই পড়ে ছিল ১৯ বছর বয়সী রিমন হোসেনের নিথর দেহ। স্থানীয়দের নজর পড়েনি ঘরের ভেতরে থাকা করুণ পরিণতির দিকে। শেষ পর্যন্ত ঘরের ভেতর থেকে ভেসে আসা তীব্র পঁচা দুর্গন্ধই জানান দিল রিমন আর নেই।

রোববার (৫ জুলাই) সকালে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের চরমুঘুয়া গ্রামের নূর পাটওয়ারী বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।

রিমনের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিন বছর আগে বাবা আবুল কাশেমের মৃত্যুর পর থেকেই বদলে যেতে শুরু করে রিমনের জীবন। জড়িয়ে পড়ে মাদকের ভয়াল থাবায়। প্রবাসী বড় ভাই ও মায়ের সঙ্গে বসবাস করলেও নেশার টাকার জন্য মায়ের ওপর চলতো রিমনের নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠলে দেড় বছর আগে স্বজনদের পরামর্শে রিমনের মা ফতেমা বেগম অন্যত্র বিয়ে করেন। সেই থেকে জনমানবহীন বিশাল বাড়িতে একাকীই বসবাস করছিল রিমন।

রোববার সকালে স্থানীয়রা ওই বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ঘরের ভেতর থেকে অসহ্য দুর্গন্ধ পান। ভেতর থেকে দরজা-জানালা বন্ধ থাকায় প্রতিবেশীরা সন্দেহবশত জানালার ফাঁক দিয়ে উঁকি দেন। সেখানে আড়ার সঙ্গে ঝুলে থাকা রিমনের অর্ধগলিত মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কলের মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, গত বৃহস্পতিবার রাতের কোনো এক সময় রিমন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে।

ছেলেকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ মা ফতেমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “মাদকের নেশা আমার ছেলেকে শেষ করে দিয়েছে। তাকে শাসন করতে গিয়েও উল্টো মারধর সহ্য করতে হয়েছে। পরিবেশ পরিস্থিতির চাপে আমি দূরে চলে যেতে বাধ্য হয়েছি, কিন্তু মা হিসেবে সবসময় তার খোঁজ রাখতাম। বৃহস্পতিবারও খবর নিয়েছিলাম, অথচ আজ শুনলাম আমার ছেলে আর নেই।”

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ্ বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আমরা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাদকাসক্তির হতাশা থেকেই সে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।”