বাল্যবিবাহ, শিশু নির্যাতন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার মতো বহুমাত্রিক সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে জনমত সুসংহত করার প্রত্যয়ে এবং
জলবায়ূর চরম ভাবাপন্নতা মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা রক্ষায় তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে কক্সবাজার সদর উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে মানববন্ধন, সচেতনতাম‚লক ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষচারা বিতরণ কর্মস‚চি।

বৃহস্পতিবার সকালে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের ‘চাইল্ড সেইফটি নেট প্রকল্প’-এর সহযোগিতায় এবং চাইল্ড ফোরাম ও ইয়ুথ ফোরামের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার(২৫জুন) সকাল ১০টায় কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধনে শতাধিক কিশোর-কিশোরী ও তরুণ অংশগ্রহণ করেন। এসময় তারা বাল্যবিবাহ, শিশু নির্যাতন ও নারী সহিংসতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন
¯েøাগান সংবলিত প্লেকার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে সামাজিক প্রতিরোধ জোরদারের আহ্বান জানান।
পরে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ অভিঘাত মোকাবিলা এবং টেকসই সবুজায়ন সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ফোরামের সদস্যের মাঝে বনজ, ফলদ ও ঔষধি প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়। যা তারা নিজ নিজ বাসগৃহের আঙিনায় ও পারিপার্শ্বিক উন্মুক্ত এলাকায় রোপণ করবেন। কর্মস‚চির উদ্বোধন করেন জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত বিশ্বাস।

মানববন্ধন শেষে বাল্যবিবাহ ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতাম‚লক ক্যাম্পেইন সেইফটি নেট প্রজেক্ট এর আওতায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ল্ড ভিশন এর মোবিলাইজেশন অ্যান্ড সিস্টেম স্ট্রেন্থেনিং অফিসার পার্থ প্রতিম বাগচী । তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণ কর্মস‚চি ও সবুজ বাংলাদেশ বিনির্মাণের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সবাইকে স্ব স্ব অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশগত ভারসাম্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আরো বলেন, মনে রাখতে হবে চাইল্ড ফোরাম ও ইয়ুথ ফোরামের সদস্যরা সমাজের নীরব দর্শক নয়, পরিবর্তনের অগ্রসৈনিক। তারা বাল্যবিবাহ ও শিশু নির্যাতনের তথ্য পেলে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ ও সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে সামাজিক দায়িত্ব পালন করছে। তাদের এই কার্যক্রম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ সমাজ বিনির্মাণে গুরুত্বপ‚র্ণ অবদান রাখছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা মহিলা বিষয়ক উপপরিচালক সুব্রত বিশ্বাস বলেন, বাল্যবিবাহ কেবল একটি সামাজিক কুপ্রথা নয় এটি একটি জাতির মানবসম্পদ বিকাশের পথে গুরুতর অন্তরায়। এই অমানবিক প্রথা শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আত্মমর্যাদা ও স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। বিশেষ করে কিশোরীদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দেয়।
তিনি আরো বলেন,তরুণদের ইতিবাচক অংশগ্রহণ ছাড়া সামাজিক পরিবর্তন সম্ভব নয়। আজকের এই আয়োজন প্রমাণ করেছে, আগামী দিনের নেতৃত্ব এখনই মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও সামাজিক সচেতনতার ভিত্তির ওপর নিজেদের গড়ে তুলছে।

সভায় চাইল্ড ফোরাম ও ইয়ুথ ফোরামের সদস্যরা বলেন, বাল্যবিবাহ শুধু মেয়েদের নয়, ছেলেদের জীবনেও দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে। এই কুপ্রথা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিপন্ন করছে। তাই সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। চাইল্ড ফোরাম ও ইয়ুথ ফোরামের সদস্যরা পাড়া মহল্লা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পরিবার পর্যায়ে সচেতনতার যে সামাজিক বলয় আজ গড়ে তুলছে, তা বাল্যবিবাহ, সহিংসতা ও সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে কার্যকর ভ‚মিকা রাখবে।
বৃক্ষরোপণ প্রসঙ্গে তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মস‚চি বাস্তবায়ন এবং একটি সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গঠনে প্রত্যেক নাগরিককে ভ‚মিকা রাখতে হবে। পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। একটি গাছ কেবল প্রকৃতির শোভা নয় এটি জীবন, জীবিকা ও মানব অস্তিত্বের অন্যতম রক্ষাকবচ। তাই প্রতিটি মানুষকে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ এবং তার যথাযথ পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে।

অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীরা বিতরণকৃত চারা নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় রোপণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। একইসঙ্গে তারা বাল্যবিবাহমুক্ত, সহিংসতামুক্ত এবং পরিবেশবান্ধব সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।