কক্সবাজার ও টেকনাফ উপকূলে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে পাঁচটি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। সেন্টমার্টিন, শাহপরীর দ্বীপ, রাজারছড়া, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত এবং কচুবুনিয়া–কাটাবুনিয়া উপকূল থেকে উদ্ধার হওয়া এসব মরদেহের পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে সেন্টমার্টিন সমুদ্রসৈকত থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই দিন সন্ধ্যায় টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ সৈকত থেকে আরও একটি এবং সদর ইউনিয়নের রাজারছড়া উপকূল থেকে তৃতীয় একটি অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে একটি নারীর বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছে টেকনাফ মডেল থানা।

এরপর বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১০টার দিকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে জোয়ারের পানিতে ভেসে আসে আরও একটি খণ্ডিত মরদেহ। বিচকর্মীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহটির মাথা এবং কোমরের নিচের অংশ বিচ্ছিন্ন ছিল। দীর্ঘ সময় সাগরের লোনা পানিতে থাকায় মরদেহটি পচে বিকৃত হয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় কিংবা লিঙ্গ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

সবশেষ শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল প্রায় ৯টার দিকে টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপসংলগ্ন কচুবুনিয়া–কাটাবুনিয়া উপকূল থেকে একটি মানুষের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। শাহপরীর দ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সঞ্জীব জানান, দীর্ঘ সময় সাগরের লবণাক্ত পানিতে থাকায় দেহটি প্রায় সম্পূর্ণ কঙ্কালে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদীপথে অতীতেও বিচ্ছিন্নভাবে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। তবে অল্প সময়ের মধ্যে পরপর পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তবে মানবপাচার, ট্রলারডুবি, অবৈধ সমুদ্রযাত্রা বা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যসংলগ্ন নাফ নদীপথে কোনো নৌদুর্ঘটনার সঙ্গে এসব মৃত্যুর সম্পর্ক রয়েছে কি না—সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, এসব সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

থানা সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন থানায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রতিটি ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ এবং ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর কারণ ও পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগর উপকূলে দীর্ঘ সময় পানিতে থাকা মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা অত্যন্ত জটিল। এ ক্ষেত্রে ডিএনএ বিশ্লেষণ, নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা এবং আন্তঃসংস্থার সমন্বিত তদন্তই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।