নলকূপ বসাতে মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে এলো গ্যাস, মুহূর্তেই জ্বলে উঠল দাউদাউ আগুন। এই আগুনের শিখা ও গ্যাসের প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় সম্ভাব্য বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড ও জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। খবর পেয়ে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিস, সতর্ক করা হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। কিন্তু ভূগর্ভের কোন স্তর থেকে, কী ধরনের গ্যাস বেরিয়ে এলো তার উত্তর মিলবে বিশেষজ্ঞ পরীক্ষা নিরীক্ষার পরই। কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীতে গভীর নলকূপ (টিউবওয়েল) স্থাপনকালে ভূগর্ভ থেকে আকস্মিক ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে উচ্চ চাপে প্রাকৃতিক গ্যাস ও ধোঁয়া উদ্গিরণের ঘটনা ঘটেছে।
গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ছোট ইনানী এলাকার মোস্তফা সিকদারের বাসভবনের আঙিনায় এই ভূগর্ভস্থ গ্যাস বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বাড়ির মালিক মোস্তফা সিকদার ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, সকালে আমাদের বাড়ির আঙিনায় খাবার পানির তীব্র সংকট নিরসনে ৫/৬জনের একদল শ্রমিক গভীর নলকূপ বসানোর জন্য মাটি খনন করছিলেন। আনুমানিক ৩০০ থেকে ৪০০ ফুট গভীরে যাওয়ার পর হঠাৎ করেই মাটির নিচ থেকে বিকট শব্দে তীব্র গন্ধযুক্ত গ্যাস, কাদা ও ধোঁয়া সজোরে বের হতে শুরু করে। এসময় আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই আকস্মিকভাবে সেখানে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। কিছুক্ষনের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা মুহূর্তের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ ফুট উঁচুতে রূপ নেয়। আমরা চরম জীবন ঝুঁকিতে পড়ে তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দিই।
ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিটের দীর্ঘ চেষ্টার পরও আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসায় দুপুর আড়াইটার পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফায়ার টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের অভিযানে যোগ দিয়েছেন। আগুন যেন বৈদ্যুতিক খুঁটির তারের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞরা ফায়ার সার্ভিসের সাথে যৌথভাবে গ্যাসের চাপ পর্যবেক্ষণ করছেন এবং আগুন ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন।
উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানান, এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালাতে বলা হয়েছে।
উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানান, ঘটনা জানতে পরে বিশেষজ্ঞদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালাতে বলা হয়েছে। ওই এলাকায় আগে থেকেই গ্যাস পাওয়ার কথা স্থানীয়দের মুখে শুনেছেন তাঁরা। তবে সেখানে প্রকৃতপক্ষে প্রাকৃতিক গ্যাস রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।