জুলাইয়ের সহিংসতা, গুম, হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, অতীতের সহিংসতা ও রাজনৈতিক নির্যাতনের ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা না গেলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে না।
মঙ্গলবার রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বিচার কার্যক্রমের গতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সরকারের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিচার ও জবাবদিহির প্রশ্ন
সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের পর দেশের মানুষ একটি ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশা করেছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতের গুম, হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগগুলোর বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ রয়েছে এবং এসব বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ
জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আর্থিক খাত ও অন্যান্য জাতীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক সহিংসতার নিন্দা
সমাবেশে সাম্প্রতিক কয়েকটি সহিংস ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে শফিকুর রহমান রাজনৈতিক সহিংসতার নিন্দা জানান। তিনি বলেন, মতাদর্শ বা রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে কোনো ব্যক্তি যেন সহিংসতার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোকাবিলা করা উচিত এবং সহিংসতা কখনোই স্থায়ী সমাধান হতে পারে না।
নবাধিকার ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের আহ্বান
বক্তব্যে তিনি মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও সহনশীল ও অংশগ্রহণমূলক করতে হলে সব পক্ষের মধ্যে আস্থা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন।
বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতার উপস্থিতি
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এবং এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।
সমাবেশ থেকে অতীতের রাজনৈতিক সহিংসতা, গুম, হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
