ঢাকায় অবস্থান করলেও কক্সবাজারের উখিয়ায় দায়ের করা একটি মাদক মামলায় পলাতক আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওযায় বিস্ময়,ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে অব্যাহতি এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সরকারি বাংলাদেশ পল্লী ব্যাংকের মাঠ সহকারী জেলা আঞ্চলিক কার্যালয়ে কর্মরত মো. মনির। গতকাল ২২জুন সোমবার বিকেলে বালুখালীর বাজারে এক হোটেলের কনফারেন্স হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি নিজেকে সম্প‚র্ণ নির্দোষ দাবি করে ওই মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলা থেকে অব্যাহতির আকুতি জানান। তিনি এ ঘটনাকে একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার, প্রতিহিংসাপরায়ণ চক্রের গভীর ষড়যন্ত্র এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপকৌশল বলে অভিহিত করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মনির জানান, গত ১৯ জুন তিনি তাঁর ভাইকে নিয়ে রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। এর প্রমাণস্বরূপ তিনি ঢাকায় অবস্থানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং পরদিন বিমানে করে কক্সবাজার ফিরে আসার টিকিট ও বোর্ডিং পাস সাংবাদিকদের দেখান। ওইদিন গভীর রাতে ধামনখালীর চৌধুরী ঘের নামক স্থানে বালুখালী বিওপির একটি দল অভিযান চালিয়ে কাদির হোসেন নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে এক লাখ চল্লিশ হাজার ইয়াবাসহ আটক করে।

তিনি বলেন,প্রতিপক্ষরা অন্য কোনো উপায়ে সফল হতে না পেরে শেষ পর্যন্ত অন্যজনের ইয়াবা আটকের মামলায় আমাকে ষড়যন্ত্রমুলক ভাবে জড়ানো হয়েছে। পরে বাড়ি ফেরার পর তিনি জানতে পারি, উখিয়া থানায় মাদক মামলায় নিজেকে ২নং পলাতক আসামি করা হয়েছে। যেখানে ঘটনার সময় আমি ঢাকায় ছিলাম, উক্ত মামলায় আটক ব্যক্তির সাথে আমাকেও কোন কারন ছাড়া সম্প‚র্ণ উদ্যেশ্যমুলক ভাবে পলাতক দেখিয়ে আসামী। মাদককে আমি মনে-প্রাণে ঘৃণা করি, কখনো কাউকে এই অপকর্মে উৎসাহও দিইনি। অথচ আজ মাদক চক্রের ষড়যন্ত্রে আমি নিজেই মামলার পলাতক আসামি। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেন, এটি সম্প‚র্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মনগড়া ও ষড়যন্ত্রম‚লক মামলা।

মনির বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, যা বেতন পাই তা দিয়ে আল্লাহর রহমতে আমার সংসার ভালোভাবে চলে যায়। আমাদের বাড়ি সীমান্ত এলাকায় হওয়ায় নিজ এলাকার মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আমরা সবসময় সোচ্চার এবং সচরাচর প্রতিবাদ করে আসছি । এলাকার কিছু চিহ্নিত মাদক কারবারি আমাদের এই সামাজিক কার্যক্রমের কারণে সুবিধা করতে না পেরে আমাকে ও আমার পরিবারকে হয়রানি করার জন্য একের পর এক ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে থাকে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে মো: মনির তাঁর বিরুদ্ধে আনীত এই মিথ্যা মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। একই সাথে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত না হওয়া পর্যন্ত এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশি হয়রানি বন্ধ রাখার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন সংবাদ সন্মেলনের মাধ্যমে। ।