সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।

তবে সরকারি আদেশে তার বদলির কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। ফলে প্রশাসনিক মহল ও স্থানীয় পর্যায়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরাণ (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করে আলোচনায় আসেন সারওয়ার আলম। তার উদ্যোগে মাজারের কয়েকটি ডেগ (দান সংগ্রহের পাত্র) সিলগালা করা হয়, নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয় এবং দান ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাজারের আর্থিক লেনদেন ও দানের অর্থের হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে মাজারের দান ও খয়রাতের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন প্রশ্ন ও আলোচনা থাকলেও এবারই প্রথম প্রশাসনিকভাবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে সামনে আসে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, একটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে আর্থিক হিসাব চাওয়া হলে সন্তোষজনক তথ্য উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি বলে জানা যায়।

সিলেটের সাধারণ মানুষের একটি অংশ মাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও অন্য একটি অংশ এ পদক্ষেপের বিরোধিতা করে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ডিসি সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারের আদেশ জারি হলো।