টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সেবার মান, ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যালোচনা করতে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে তিনি হাসপাতালে পৌঁছে জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, বিভিন্ন ওয়ার্ড ও শৌচাগার পরিদর্শন করেন। এ সময় রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ সরবরাহ, পরিচ্ছন্নতা এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

পরিদর্শনকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের উপস্থিতি পর্যালোচনা করে তিনি কয়েকজনের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। হাসপাতাল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে উপ-পরিচালক ডা. মো. কামরুল কিবরিয়ার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে হাসপাতালের প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সাময়িকভাবে ছুটি অনুমোদনের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজন প্রতিমন্ত্রীর কাছে সেবার মান, দালালচক্রের তৎপরতা এবং বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তির অভিযোগ তুলে ধরেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের কয়েকটি শৌচাগারের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। পরে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুসের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাখ্যা চান এবং হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ ও সেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এ সময় দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি হাসপাতাল এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সমন্বিত তৎপরতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, হাসপাতালকে ঘিরে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে খোঁজ নিতে তিনি পরিদর্শনে এসেছেন। তিনি বলেন, “পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা ও সেবার মান উন্নয়নের মাধ্যমে হাসপাতালকে জনগণের আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পরিদর্শনকালে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুব হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচ এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়া, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল, টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।