নওগাঁ সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের চুয়ারপাড়া গ্রামে ঈদের দিন ঈদগাহে নামাজ আদায়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা চেষ্টা মামলায় একই পরিবারের ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠলেও তিনি তা অস্বীকার করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ মে (ঈদের দিন) দুপুরে চুয়ারপাড়া গ্রামের ঈদগাহে নামাজ আদায়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। পাশাপাশি নগদ অর্থ লুটপাট, বসতবাড়ি ও একটি চার্জারচালিত অটোরিকশা ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে।

আহতদের মধ্যে মো. মহসিন সরদার (৫০) ও তার স্ত্রী মোছা. আমিনা বেগম (৪০)-এর নাম জানা গেছে।

নওগাঁয় ঈদগাহকেন্দ্রিক সংঘর্ষের ঘটনা 

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সরদার পরিবারের সদস্য মামুন সরদার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশি সহায়তা চান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠায়।

তবে আসামিপক্ষের দাবি, চিকিৎসা শেষে মামুন সরদারসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় হাসেম সরদারকে এক নম্বর এবং মামুন সরদারকে দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে। একই পরিবারের মোট ৯ জনকে এ মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।

মামলা-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের মধ্যে পাঁচজন ইতোমধ্যে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তাদের একজন উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করেছেন। বাকি চারজন বর্তমানে নওগাঁ জেলা কারাগারে রয়েছেন।

আসামিপক্ষের অভিযোগ, ঘটনার সময় তারাই প্রথমে পুলিশকে খবর দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করা হয়।

এদিকে মামুন সরদারের শ্বশুর, যিনি স্থানীয়ভাবে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত, অভিযোগ করেন যে নওগাঁ সদর মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) প্রদীপ কুমার তাদের কাউন্টার মামলা করতে উৎসাহিত করেন এবং মামলার বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন।

তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো লিখিত প্রমাণ, আদালতের নথি বা সরকারি তদন্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

সংঘর্ষে জড়িত অপর পক্ষের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন জয়নুল সরদার (৩২), আব্দুল মালেক (৩৬) ও নাজমুল সরদার (৫১)।

স্থানীয়দের মতে, প্রায় ২৫০ ভোটার ও ৩০০-এর বেশি বাসিন্দার এই গ্রামে ঘটনাটি নিয়ে এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারা উভয় পক্ষের বিরোধ নিরসনে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) প্রদীপ কুমার বলেন, “ঈদের দিন সংঘটিত ঘটনাটি আমি তদন্ত করছি। এক পক্ষ মামলা করেছে, অপর পক্ষও পাল্টা মামলা দায়ের করেছে। আইন অনুযায়ী বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমি কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করিনি।”

পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষের অভিযোগ ও সাক্ষ্যপ্রমাণ যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।