নীলফামারীর সৈয়দপুরে আগুনে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা গ্রহণে বিলম্বের অভিযোগ তুলে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ, থানা ঘেরাও এবং সড়ক অবরোধ করেছেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনায় কয়েক ঘণ্টা ধরে শহরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

সোমবার দুপুরে উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের কাচারীপাড়া এলাকা থেকে নিহতের মরদেহ নিয়ে শতাধিক মানুষ বিক্ষোভ মিছিলসহ সৈয়দপুর শহরে আসেন। পরে তারা সৈয়দপুর থানার সামনে অবস্থান নেন এবং শেরে বাংলা সড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়ক অবরোধের কারণে সৈয়দপুর-নীলফামারী মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুন ভোরে খাতামধুপুর ইউনিয়নের কাচারীপাড়া এলাকায় একটি নির্মাণাধীন বাড়িতে আগুন লাগার ঘটনায় আফাজ উদ্দিন (৬২) গুরুতর দগ্ধ হন। পরে তাকে প্রথমে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতাল, এরপর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ জুন (পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী) তার মৃত্যু হয়।

নিহতের ছেলে আবু বকর সিদ্দিক অভিযোগ করেন, পূর্ববিরোধের জের ধরে কয়েকজন ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে তাদের পরিবারের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে নির্মাণাধীন ঘরে দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে আগুন দেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও মামলা গ্রহণে বিলম্ব করা হয়েছে এবং বিষয়টি আপস-মীমাংসার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে অভিযুক্ত পক্ষ। তাদের দাবি, পূর্বশত্রুতার কারণে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং নিরপেক্ষ তদন্তে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে।

এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করে। পরিবারের পক্ষ থেকে দাখিল করা এজাহারে কিছু তথ্যগত ও কারিগরি ত্রুটি থাকায় সংশোধনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। পরে সংশোধিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, আগুন লাগার কারণ, অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা এবং মৃত্যুর সঙ্গে ঘটনার সম্পর্কসহ সব বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে।