ধরলা নদী পেরিয়ে পৌঁছাতে হয় কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের কাগজিপাড়া চরে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা থেকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত এ চরাঞ্চলের মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা এখনো এক বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে ঈদের মতো উৎসবের সময় অসুস্থতা দেখা দিলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

এমন বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত চরবাসীর জন্য ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য ইউনুস আলী। তাঁর উদ্যোগে শনিবার (৩০ মে) কাগজিপাড়া চরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে দিনব্যাপী একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।

ক্যাম্পে নারী, শিশু ও প্রবীণসহ সাত শতাধিক চরবাসীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ প্রদান করা হয়।

সকাল থেকেই আশপাশের বিভিন্ন চরাঞ্চল থেকে চিকিৎসাসেবা নিতে মানুষের ঢল নামে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও সেবা নিতে আগ্রহী ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। চিকিৎসকদের আন্তরিকতা ও বিনামূল্যের স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তারা।

কাগজিপাড়া চরের বাসিন্দা আফরোজা বেগম বলেন, “আমাদের এলাকায় ডাক্তার পাওয়া খুবই কঠিন। অসুস্থ হলে নদী পার হয়ে শহরে যেতে হয়। আজ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়ে অনেক উপকার হয়েছে।”

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আজিজ বলেন, “ঈদের আগে এমন আয়োজন আমাদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। গরিব মানুষ একসঙ্গে চিকিৎসা ও ওষুধ—দুটোই পেয়েছে।”

মেডিকেল ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক ডা. অভিজিৎ রুদ্র জানান, “রোগীদের মধ্যে ডায়াবেটিস, বিভিন্ন ধরনের ব্যথাজনিত সমস্যা এবং চর্মরোগের প্রকোপ বেশি দেখা গেছে। জটিল রোগে আক্রান্তদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”

স্থানীয় সমাজসেবক আল আমিন সরকার বাবলা বলেন, “চরাঞ্চলের মানুষ এখনো অনেক মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত। চিকিৎসার জন্য জেলা শহরে যেতে হয়, যা অনেকের পক্ষে সম্ভব নয়। এই মেডিকেল ক্যাম্প চরবাসীর জন্য অত্যন্ত উপকারী হয়েছে।”

আয়োজক ও হলোখানা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইউনুস আলী বলেন, “চরের মানুষ এখনও নানা মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ভাগাভাগি করে নিতে এবং তাদের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারাটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

তিনি আরও বলেন, “স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। কিন্তু ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতার কারণে চরাঞ্চলের মানুষ সেই অধিকার থেকে অনেক সময় বঞ্চিত হয়। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার চেষ্টা থাকবে।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আসাদুজ্জামান আরিফ, আল আমিন সরকার বাবলা, আশরাফুল হক, রানা মিয়া, উর্মি ইসলাম, তামান্না সরকার, শাহানাজ পারভীন, আল আমিনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।