পবিত্র ঈদুল আজহার দিনেও দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছে দুই শিশু, আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও আটজন। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৭৩২ জন।
শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ সকাল ৮টা থেকে ২৯ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৫৭৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৯০ জনের, আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৪৮৫ শিশু।
একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৯৪৩ জন। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি বা চিকিৎসা নিয়েছে ৬৮ হাজার ৫৭৯ জন।
সংক্রমণ ও মৃত্যুর দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ঢাকা বিভাগ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বিভাগে হাম ও উপসর্গে মারা গেছে ২৫০ জন এবং আক্রান্ত হয়েছে ৩৮ হাজার ৬২৩ জন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের টিকাদান কাভারেজে ঘাটতি, জনসচেতনতার অভাব এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত সংক্রমণের কারণেই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ঈদের ছুটিতে মানুষের চলাচল বাড়ায় সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের শিশুদের মধ্যে জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি বা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের হাম-রুবেলা টিকা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন।
