জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘিরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ফলে যে কোনো দিন এ মামলার রায় ঘোষণা করা হতে পারে।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের দীর্ঘ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখার আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে দাবি করেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উসকানি ও প্ররোচনা দিয়েছেন ইনু। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে তার ওপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দায়ও বর্তায়। অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে রাষ্ট্রপক্ষ তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রধান প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম এবং প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী ও সিফাত মাহমুদ।
প্রসিকিউশন আদালতে শেখ হাসিনা ও ইনুর মধ্যকার একটি টেলিফোন আলাপের রেকর্ড উপস্থাপন করে। সেখানে গণআন্দোলনকে ‘জঙ্গিবাদ’ হিসেবে উল্লেখ করে কঠোরভাবে দমনের আহ্বান জানানো হয়েছে বলে দাবি রাষ্ট্রপক্ষের। তাদের মতে, ইনুর বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হয়েই তৎকালীন সরকার বিভিন্ন কঠোর ও ধ্বংসাত্মক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে।

তবে আসামিপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, উপস্থাপিত ফোনালাপের কোথাও আন্দোলন দমনে গুলি, বোমা হামলা বা নির্যাতনের নির্দেশ বা প্ররোচনার কোনো বক্তব্য নেই। প্রসিকিউশনের নথিপত্রেও এমন কোনো তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি, যা থেকে প্রমাণ হয় ইনু সহিংসতা বা দমন-পীড়নে উসকানি দিয়েছেন।

মামলার কার্যক্রমে গত বছরের ১ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে ইনুর বিরুদ্ধে আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দাখিল করে। একই দিন শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নেয়।
২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট ইনু আটক হন। পরে জুলাই আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা ইনু দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের প্রার্থী হিসেবে নিজ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে তিনি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।