ময়মনসিংহের সদরে (৬০) নূরজাহান নামে এক বৃদ্ধাকে মাথা থেঁতলে হত্যার ঘটনায় মো. রনি মিয়া (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই যুবক তার প্রেমিকাকে নিয়ে বৃদ্ধার বাড়িতে সময় কাটানোর জন্য ৫০০ টাকা করে দিতেন। পাওনা ৫০০ টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বে বৃদ্ধাকে মাথা খেতলে হত্যা করে রনি।
গত ২৮ জানুয়ারি সদর উপজেলার মীরকান্দাপাড়া গ্রামে নূরজাহান (৬০) নামের এক বৃদ্ধাকে হত্যা করা হয়। তিনি ওই বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। গ্রেপ্তার রনি মিয়া একই এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি।
রবিবার (৩ মে) দুপুরে জেলা পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ময়মনসিংহ পিবিআই পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলন তিনি বলেন, রনি মাঝেমধ্যে তাঁর প্রেমিকাকে নিয়ে নূরজাহানের বাড়িতে অবস্থান করতেন। বিনিময়ে ৫০০ টাকা করে ভাড়া দিতেন। তবে সর্বশেষ তিনি ভাড়া না দিয়ে চলে যান। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় নূরজাহানকে হত্যা করা হয়।
পিবিআই জানায়, ঘটনার রাতে রনি মিয়া বৃদ্ধা নূরজাহানের বাড়িতে গিয়ে প্রেমিকাকে নিয়ে অবস্থান করার কথা তাঁদের জানিয়েছেন। কিন্তু আগের ভাড়া পরিশোধ করার জন্য বৃদ্ধা বললে তা অস্বীকার করে রনি। একপর্যায়ে নূরজাহান পূর্বের পাওনা টাকা না দিলে তাঁর বাড়িতে প্রেমিকা নিয়ে আসার বিষয়টি প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দিলে ক্ষিপ্ত হন রনি মিয়া। একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে ঘরে থাকা শিল দিয়ে নূরজাহানের মাথায় আঘাত করে তাঁকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ রান্নাঘরের পাশে খড়ের নিচে লুকিয়ে রেখে তাঁর মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যান। ঘটনার দুই দিন পর ৩০ জানুয়ারি রাতে স্বজনেরা বাড়ির পাশে খড়ের নিচ থেকে নূরজাহানের মরদেহ উদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় নিহত বৃদ্ধার মেয়ে নুরুন নাহার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে পিবিআই মামলাটি তদন্ত শুরু করে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা অমিতাভ দাসের নেতৃত্বে একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শনিবার ভোরে শম্ভুগঞ্জ এলাকা থেকে রনি মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে নিহত ব্যক্তির ব্যবহৃত মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়। পরে শনিবার বিকালে আদালতে পাঠানো হলে অভিযুক্ত রনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
ময়মনসিংহ পিবিআই পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, মাত্র ৫০০ টাকার জন্য এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। হত্যার পর মরদেহ গোপন করে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিল অভিযুক্ত। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।