শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গৌরীপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃষিশিক্ষা শিক্ষক আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তিনি প্রায় দেড় বছর ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিতভাবে সরকারি বেতন উত্তোলন করছেন। এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২২ আগস্ট আকরাম হোসেন বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। বিদ্যালয়টি ২০২২ সালের ২২ জুলাই এমপিওভুক্ত হওয়ার পর তার অনুপস্থিতি আরও প্রকট আকার ধারণ করে। বিদ্যালয়ের মোট ১২২ জন শিক্ষার্থী থাকলেও প্রতিদিন ৫৫-৬০ জনের বেশি উপস্থিত থাকে না।
একজন শিক্ষকের দীর্ঘ অনুপস্থিতি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ঋতু আক্তার জানায়, “আমরা যখন সেভেনে পড়ি, তখন থেকেই আকরাম স্যার আমাদের স্কুলে নিয়মিত আসেনা। মাঝে মধ্যে তিনি আসেন, তবে হেড স্যারের রুম থেকে চলে যান, ক্লাস নেন না। উনি শুধু আমাদের ধমক দেন।”
ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “গ্রামে মেয়েদের শিক্ষিত করার জন্য গৌরীপুর বালিকা বিদ্যালয়ে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু শিক্ষক আকরাম স্যার স্কুলে আসেন না। এমতাবস্থায় আমার মেয়েটি পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়েছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক সহকারী শিক্ষক নিশ্চিত করেছেন যে, আকরাম হোসেন প্রায় দেড় বছর ধরে নিয়মিত স্কুলে আসেন না। কখনো কখনো আসলেও শুধু খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যান।
এ বিষয়ে আকরাম হোসেন জানান যে, তিনি নানা দায়িত্ব পালন করেন। তাই নিয়মিত স্কুলে যাওয়া হয় না। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের কারণেও তিনি নিয়মিত উপস্থিত থাকতে পারেননি বলে দাবি করেন। তবে, বেতন উত্তোলনের বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট উত্তর দেননি এবং জনৈক সাংবাদিককে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।
এ ব্যাপারে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর জানান, “আসলে তার যখন সুবিধা হয়, তখন এসে স্বাক্ষর করে চলে যান। সে গৌরীপুর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি। একদিন এসে অনুপস্থিতির দিনগুলোতেও স্বাক্ষর করে যান। এটা তিনি দলীয় প্রভাবেই করে যাচ্ছেন। আমি চাইলেও কিছু বলতে বা করতে পারি না। বোঝেন তো সে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতা।”
ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকসহ এলাকাবাসী।