টানা বৃষ্টিপাতের কারনে ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা ঢলে নেত্রকোনার দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদীতে পানি বাড়তে শুরু করেছে। নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় মাঠের বোরো ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি দপ্তর থেকে কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা পর্যন্ত নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর আগে সকাল থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বিজয়পুর পয়েন্ট দিয়ে উজানের পানি সোমেশ্বরী নদীতে প্রবেশ করতে শুরু করায়, নদীতে পারাপারের একমাত্র মাধ্যম কাঠের সেতুটি ভেঙ্গে যায়।

স্থানীয়রাা জানান, ভারতের মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টির কারণে সকাল থেকেই সোমেশ্বরী নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকে। এতে তেরী বাজার ঘাট থেকে শিবগঞ্জ ঘাট এবং বিরিশিরি ঘাট থেকে দক্ষিণ ভবানীপুর ঘাট এলাকায় জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের অর্থায়নে নির্মিত কাঠের সেতু পানিতে তলিয়ে গিয়ে ভেঙ্গে যায়। ফলে নদী পারাপারে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। কাঠের সেতু না থাকায়, নৌকায় যাত্রী পারাপারের সময় ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোমেশ্বরী নদীর পানি বাড়তে থাকলে, নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়ে যাবে। জমির বোরো ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। কারন এখনো মাঠের ধান কাটা হয়নি।

রমিজ উদ্দীন নামের এক রিকশাচালক বলেন, আমি আমার গাড়িতে মালামাল নিয়ে ওপারে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু এখন পার হওয়াই ঝুঁকিপূর্ণ। কাঠের সেতুটি যত দিন ছিল, আমরা স্বস্তিতে পার হতে পারতাম। এখন সেতু না থাকায় স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ অন্যান্যরা ঝুকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সোমেশ্বরী নদীর বিজয়পুর পয়েন্টে আজ বেলা ৩টা পর্যন্ত পানি বিপৎসীমার ৫ দশমিক ১১ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। দুর্গাপুর পয়েন্টে পানি প্রবাহিত হচ্ছে বিপৎসীমার ৩ দশমিক ৫৩ মিটার নিচ দিয়ে। এ ছাড়া কংশ নদের পানি বিপৎসীমার ৩ দশমিক ৯৯ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রাতে যদি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে তাহলে এলাকায় ফসলের ব্যপক ক্ষতি সাধিত হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিপা বিশ্বাস বলেন, দুর্গাপুর উপজেলায় ১৭ হাজার ৬০৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর ধান এখন পর্যন্ত কাটা হয়েছে। কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ফসল নিয়ে বিপাকে পড়বে স্থানীয় কৃষক।

এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভার:) মো. মিজানুর রহমান বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে সোমেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি এবং ধান কাটার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও করা হচ্ছে। এখনো বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি, তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্ততি নেয়া হয়েছে।