দেশের সুপরিচিত অভিনেতা শাকিব খান সাম্প্রতিক মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘প্রিন্স’ নিয়ে দর্শক, সমালোচক ও ভক্তদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। ঈদ উৎসবে মুক্তিপ্রাপ্ত এই সিনেমাটি টেকনিক্যাল জটিলতা ও সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রথম দিন থেকেই আশানুরুপ সাড়া পায়নি।

মঙ্গলবার রাজধানীর উত্তরা সেন্টার পয়েন্টে অবস্থিত স্টার সিনেপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত বিশেষ প্রদর্শনীর পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শাকিব খান বলেন, “আমি যখন ‘প্রিন্স’ সিনেমার গল্প শুনেছি, মনে হয়েছিল এটি আমার জীবনের অন্যতম বড় সিনেমা হতে যাচ্ছে। কিন্তু সময় ও পরিস্থিতির কারণে আমরা তা পূর্ণ করতে পারিনি। এজন্য নির্মাতা সহ সবার পক্ষ থেকে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।” তিনি আরও জানান, “পরবর্তী সিনেমায় এই ত্রুটিগুলো খেয়াল রাখা হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নির্মাতা আবু হায়াত মাহমুদ, প্রযোজক শিরিন সুলতানা, অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ, জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু, ডা. এজাজ এবং ইন্তেখাব দিনার

শাকিব খান জানান, সিনেমার জন্য প্রায় ৩০টির বেশি গল্প শুনে একটি গল্প পছন্দ করেছিলেন। “তবে ভারতে কাজের অনুমতি না পাওয়া, সেটের পুনর্বিন্যাস এবং ঈদের আগের দিন পর্যন্ত শুটিং করার কারণে সময়ের সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছিল। যার ফলে কিছু ত্রুটি থেকে গেছে,” তিনি বলেন।

তিনি প্রযুক্তিগত সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। “মুক্তির প্রথম পাঁচ দিন মাল্টিপ্লেক্সে সিনেমা চলেনি, যা বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়েছে। ঈদের পর পাঁচ দিন আমরা মাল্টিপ্লেক্সে ঢুকতে পারিনি, যা সত্যিই কষ্টের,” শাকিব খান জানান।

নতুন সরকারের প্রতি শাকিবের আহ্বান, “দেশে নতুন সরকার এসেছে। তাদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকে শুধু নাচ-গান নয়, সমাজ ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখার জায়গা হিসেবে দেখার প্রয়োজন।”

অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ বলেন, “সিনেমার প্রতি আমার প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিল। সময় ও পরিস্থিতি মিলে সব কিছু পরিকল্পনা মতো হয়নি। তবে আমি আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।”

নির্মাতা হায়াত মাহমুদ যোগ করেন, “‘প্রিন্স’ কিছুদিন সিনেপ্লেক্সে না চললেও এখন সর্বাধিক শো নিয়ে চলছে। দর্শকরা ইতিমধ্যে ‘প্রিন্স ২’ চাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সময় হলে আমরা সেই ঘোষণা দেব।