বিনোদন জগতে জেন্ডার সংবেদনশীলতা নিশ্চিত করতে এবং ইতিবাচক বার্তাধর্মী চিত্রনাট্য নির্মাণে দক্ষতা বাড়াতে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হলো দিনব্যাপী একটি বিশেষ কর্মশালা। এতে অংশ নেন প্রায় ৬০ জন চিত্রনাট্যকার, যারা সমসাময়িক গণমাধ্যমে বৈষম্যহীন ও দায়িত্বশীল গল্প বলার কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, টেলিভিশন ও অনলাইনভিত্তিক নাটকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এখনো নারী-পুরুষের অসম উপস্থাপন এবং প্রচলিত নেতিবাচক সামাজিক ধারণার প্রতিফলন দেখা যায়। এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার জন্য চিত্রনাট্যে সমতা, বাস্তবতা এবং সংবেদনশীল ভাষা ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। তারা মনে করেন, গণমাধ্যম কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়—এটি সামাজিক মানস গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ।

অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, নাট্যকার ও নির্মাতা মাসুম রেজা এবং অভিনেত্রী ও শিক্ষাবিদ ওয়াহিদা মল্লিক জলি। তারা অংশগ্রহণকারীদের সামনে চরিত্র নির্মাণে ভারসাম্য, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং জেন্ডার-সংবেদনশীল ভাষা প্রয়োগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

মাসুম রেজা তার বক্তব্যে বলেন, নারী চরিত্রকে প্রচলিত ছক থেকে বের করে এনে বাস্তবসম্মত ও ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা জরুরি। এর মাধ্যমে দর্শকদের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছানো সম্ভব হবে।

‘সমতায় তারুণ্য: ইয়ুথ ফর ইকুয়ালিটি’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এবং টেলিভিশন নাট্যকার সংঘের সহযোগিতায় এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের অর্থায়নে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন নাট্যকার সংঘের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন উজ্জ্বল এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তারা। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দায়িত্বশীল বিনোদন মাধ্যম গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।