নেত্রকোনার মদন উপজেলায় স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে থানায় লিখিত আবেদন করেছেন নূরুন্নাহার নামে এক নারী। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, একটি ‘ভুয়া তালাক নোটিশ’ দেখিয়ে তাকে সংসার থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রায় ১৭ বছর আগে পারিবারিকভাবে জহিরুল ইসলাম-এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন নূরুন্নাহার। তাদের সংসারে ১৪ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন স্বাভাবিকভাবে সংসার চললেও সাম্প্রতিক সময়ে দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয় বলে দাবি তার।
নূরুন্নাহারের অভিযোগ, পৈতৃক সম্পত্তি থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে স্বামীকে সহায়তা করার পর তার আচরণে পরিবর্তন আসে এবং পরবর্তীতে পারিবারিক বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে একাধিক সালিশ বৈঠকও হয়েছে, যেখানে পুনরায় সংসার চালানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি জানান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি একটি কাজীর মাধ্যমে তালাকের নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে এলাকায় প্রচার চালানো হয়। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করা হয় এবং আহত অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। পরবর্তীতে বাড়িতে ফিরে গেলে তাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ক্রয়কৃত জমির দলিল বুঝিয়ে না দেওয়া এবং ভরণপোষণ না দেওয়ার বিষয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি আইনগত প্রক্রিয়ায় তালাক দিয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সত্য নয়। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কাজী হোসাইন আহমেদ জানান, তিনি প্রচলিত আইন মেনেই দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ বিষয়ে হাসনাত জামান, মদন থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, এর আগেও উভয় পক্ষকে নিয়ে থানায় সমঝোতার চেষ্টা করা হয়েছিল। নতুন করে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, পারিবারিক বিরোধের এমন ঘটনা সামাজিকভাবে সংবেদনশীল এবং দ্রুত ন্যায়সঙ্গত সমাধান জরুরি। বিশেষ করে নারী নির্যাতনের অভিযোগে যথাযথ তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।