ইউরোপীয় আকাশপথে অস্ত্র পরিবহন নিয়ে ক্রমবর্ধমান নজরদারির মধ্যেই ইসরায়েলের উদ্দেশে যুক্তরাজ্য থেকে পাঠানো সামরিক সরঞ্জামের দুটি চালান জব্দ করেছে বেলজিয়াম। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া নিষিদ্ধ সামরিক মালামাল পরিবহনের অভিযোগেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে গত ২৪ মার্চ, যখন বেলজিয়ামের লিয়েজ বিমানবন্দরে তল্লাশি চালিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সন্দেহভাজন দুটি চালান আটক করে। আগের দিন যুক্তরাজ্য থেকে পাঠানো এই মালামালগুলোর বিষয়ে পূর্বেই সতর্ক করেছিল কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠন। তাদের অভিযোগ ছিল, বেলজিয়ামের ভৌগোলিক অবস্থানকে ব্যবহার করে গোপনে ইসরায়েলে সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে।

Advertisement

জব্দ করা চালান পরীক্ষা করে বেলজিয়ামের এক বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী নিশ্চিত করেছেন, এর মধ্যে সামরিক বিমানে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ এবং অগ্নিনির্বাপক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মতো সরঞ্জাম ছিল। অভিযোগ উঠেছে, এসব উপকরণকে সাধারণ বিমানযন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে পাঠানো হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক রপ্তানি বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এ ঘটনায় বেলজিয়াম সরকার ইতোমধ্যে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে। যদিও তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, একটি মার্কিন অ্যারোস্পেস কোম্পানির যুক্তরাজ্যভিত্তিক কারখানা এ ধরনের সরবরাহে জড়িত থাকতে পারে। তদন্তকারীরা আরও খতিয়ে দেখছেন, পূর্বেও একই পদ্ধতিতে একাধিক চালান ইউরোপ হয়ে ইসরায়েলে পাঠানো হয়েছে কি না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক অস্ত্র রপ্তানি নীতিমালার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে গাজা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে যেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কায় বিভিন্ন দেশ অস্ত্র রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করছে, সেখানে এ ধরনের গোপন সরবরাহ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলেই মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্য সরকার ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানির বেশ কিছু লাইসেন্স স্থগিত করেছিল, গাজায় সামরিক অভিযানে এসব সরঞ্জাম ব্যবহারের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে। তবুও কিছু বিশেষ প্রকল্পের আওতায় সীমিত রপ্তানি চালু রয়েছে।

বেলজিয়াম সরকার স্পষ্ট করেছে, তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করে কোনো ধরনের সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের জন্য যথাযথ ট্রানজিট লাইসেন্স বাধ্যতামূলক। সংশ্লিষ্ট চালানের ক্ষেত্রে এমন কোনো অনুমোদন চাওয়া হয়নি, এবং আবেদন করা হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা প্রত্যাখ্যান করা হতো।

এই ঘটনার মাধ্যমে ইউরোপে অস্ত্র পরিবহনের ওপর নজরদারি আরও জোরদার হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।