জামালপুর সদর উপজেলার লক্ষীরচর ইউনিয়নে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা, সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর, গাছ কেটে ফেলা এবং এক গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন একটি ভুক্তভোগী পরিবার। একই সঙ্গে তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে জামালপুর শহরের দয়াময়ী এলাকায় একটি কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
লিখিত বক্তব্যে লক্ষীরচর ইউনিয়নের চরগজারিয়া গ্রামের বাসিন্দা আজাহার আলী ও তার স্ত্রী আকলিমা বেগম অভিযোগ করেন, বৈধভাবে জমি ক্রয় করে সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ এবং প্রায় ৯০ ফুট দীর্ঘ ও ৭ ফুট উঁচু সীমানা প্রাচীর নির্মাণের পর থেকেই প্রতিবেশী কয়েকজন তাদের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ভিটাছাড়া ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তাদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেওয়া হলেও পরবর্তীতে অভিযুক্তরা সেই সিদ্ধান্ত মানেননি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, একপর্যায়ে অভিযুক্তরা বসতঘরে তালা লাগিয়ে দেন এবং বাড়ির আঙিনায় থাকা প্রায় ১৫টি গাছ কেটে ফেলেন। পরে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তালা খুলে দেয়।
আকলিমা বেগমের অভিযোগ, পুলিশ চলে যাওয়ার পর অভিযুক্তরা পুনরায় বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেন। এছাড়া গত ২০ জুলাই রাতে তারা প্রায় ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলেন বলেও দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আকলিমা বেগম বলেন, “অব্যাহত হুমকির কারণে আমাদের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। এ ঘটনায় আমি আদালতে লিখিত অভিযোগ করেছি। পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
তিনি জানান, গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি দলিল নং-৩৯৩৮ মূলে চরগজারিয়া মৌজার বিআরএস খতিয়ান নং ৮৬৩ ও ৭৬৪-এর ৩৭৫৮ ও ৩৭৫৯ দাগে মোট ৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরে জমিটি তার নামে নামজারি ও খারিজ সম্পন্ন হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা সম্ভব হয়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।