বৈশাখের রেশ এখনো, কাটেনি গ্রামগঞ্জে। কোথাও চলছে বৈশাখী মেলা, কোথাও নববর্ষের আয়োজন। এরই মাঝে হঠাৎ কালবৈশাখীর ঝড়—প্রকৃতির চিরচেনা রূপ।
এমনই এক বৈরি বিকেল। আকাশে ঝড়ের শঙ্কা, বাতাসে ধুলোর ঘূর্ণি। তবুও থেমে থাকেনি একদল সাহিত্যবাজ মানুষ।
কালবৈশাখীর ঝড়কে যেনো ছাপিয়ে বইয়ের টানে হাজির তারা গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মাঠে। নতুন-পুরনো বইয়ের ঘ্রাণই তাদের টেনে এনেছে এখানে।
আর সেখানেই পর্দা উঠল ‘সন্দীপন বইমেলা’র—
বিকেল গড়াতেই বইয়ের ঘ্রাণে ভরে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। বেলা বাড়ার সাথে সাথে প্রকৃতির বৈরিতা ছাপিয়ে বাড়তে থাকে বইপ্রেমীদের আনাগোনা। কেউ স্টল ঘুরে বই দেখছেন, কেউ কিনছেন প্রিয় লেখকের নতুন বই, আবার কেউ খুঁজছেন পুরনো প্রিয় সংস্করণ।

কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘সন্দীপন বইমেলা’। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় মেলার উদ্বোধন করেন বহুমাত্রিক লেখক ও বিশ্বভ্রমণিক মাহফুজুর রহমান।
উদ্বোধনের পর থেকেই বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়। ঢাকার স্বনামধন্য প্রকাশনাসহ মোট ১৬টি স্টল নিয়ে সাজানো হয়েছে মেলা। প্রতিটি স্টলেই রয়েছে নতুন ও পুরনো বইয়ের সমাহার
শুধু বই কেনাবেচা নয়, মেলাকে ঘিরে প্রতিদিন থাকছে আলোচনা, কবিতা আবৃত্তি, পুঁথিপাঠ ও সাংস্কৃতিক আয়োজন। শিশু-কিশোরদের জন্য রাখা হয়েছে চিত্রাঙ্কন, সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতাসহ নানা সৃজনশীল কার্যক্রম।
জেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বইপ্রেমীদের উপস্থিতিতে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠেছে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ।
আয়োজকরা বলছেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলতে এবং ইতিবাচক সংস্কৃতিচর্চা ছড়িয়ে দিতেই সংগঠনটির দশকপূর্তিতে এমন আয়োজন।