নেত্রকোনার মদন উপজেলায় এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার নেত্রকোনা আদালত এ আদেশ দেন। পরে তাকে মদন থানায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী শিশুটি শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে পরীক্ষায় তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, সরকারি হাসপাতালের মেডিকেল পরীক্ষাতেও শিশুটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে, বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর চিকিৎসক ডা. সায়মা আক্তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অজ্ঞাত নম্বর থেকে প্রাণনাশ ও সহিংসতার হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে মদন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “চিকিৎসকের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি শিশু সুরক্ষা, পরিবারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতা রোধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন এবং সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কোনো শিশু অস্বাভাবিক আচরণ করলে বা শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেন তারা।