উচ্চশিক্ষার আঙিনায় শুধু প্রাতিষ্ঠানিক পুঁথিগত বিদ্যাই শেষ কথা নয়, বরং নতুন প্রজন্মের মননে জাতীয় কবির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সাম্য ও মানবতার বীজ বুনে দেওয়াও যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম দায়িত্ব সেটাই করে দেখাল ইউনিভার্সিটি অব ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী সৃষ্টিকর্মের চর্চা ও প্রসারে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রতিভাকে বিকশিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল “নজরুল বর্ষ উদযাপন” সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ।

মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত পরিবেশে মেধার এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পুরো ক্যাম্পাসকে এক ভিন্ন মাত্রার সাংস্কৃতিক আবহে রূপ দেয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের অন্যতম সদস্য প্রফেসর ড. তৌফিকুল ইসলাম মিথিল, উপাচার্য প্রফেসর ড. সৈয়দ সামসুদ্দিন আহমেদ ও রেজিস্ট্রার প্রফেসর এ. এস. শফিকুল্লাহ।

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া বিজয়ী শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিক সম্মাননা প্রদান। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, মেধা ও সাংস্কৃতিক নৈপুণ্যের স্বীকৃতিস্বরূপ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট, সনদপত্র ও বিশেষ উপহার তুলে দেন। এই সম্মাননা শিক্ষার্থীদের আগামী দিনে সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায় আরও বড় অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ও নজরুল বর্ষ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মো. ইব্রাহিম, কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান, কমিটির সদস্য সচিব মানবর্দ্ধন পাল এবং অর্থ পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন। সঞ্চালনা করেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান রোহানা আফরোজ।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, কাজী নজরুল ইসলামের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধকে তরুণ প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতেই এই আয়োজন। ইউনিভার্সিটি অব ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্বাস করে, শিক্ষার্থীদের মননশীল ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার কোনো বিকল্প নেই। আর এই নজরুল বর্ষ উদযাপন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই সমন্বিত প্রয়াসকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।