গাইবান্ধা সদরের গিদারী ইউনিয়নের উত্তর গিদারী বারটিকরী মধ্যপাড়া গ্রামে পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে মারপিট ও লুটপাটের ঘটনায় সোমবার থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় আতোয়ারা বেগম বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামী করে গাইবান্ধা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন (নং-৩৩/৫১৩)।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের উত্তর গিদারী বারটিকরী মধ্যপাড়া গ্রামের রবিজল হকের ছেলে ফিরোজ মিয়াকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের লোকজন এলাকায় গিয়ে খোঁজাখুজি করে। খোঁজাখুজির ওই বিষয়ে ফিরোজ মিয়া একই গ্রামের কামাল হোসেনের স্ত্রী আতোয়ারা বেগম ও তার পরিবারকে দোষারোপ করেন। এই তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ফিরোজ মিয়া বেশকিছু দিন যাবৎ আতোয়ারা বেগম ও তার পরিবারের সাথে শত্রুতা মনোভাব পোষণ করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ অক্টোবর ফিরোজ মিয়া ও তার লোকজন ধারালো ছোড়াসহ মারাত্মক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আতোয়ারা বেগমের জ্যাঠা শ্বশুর আবুল কাশেম সরকারের বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এরই এক পর্যায়ে আসামী মধু মিয়ার হুকুমে আসামী ফিরোজ, আরিফ মিয়া, নাজিম, শাহ কামাল, আয়না বেগম ও মমতা বেগম তাদের হাতে থাকা মারাত্মক ধারালো অস্ত্র দ্বারা এলাপাথারী মারপিট করে। এতে আরিফ, মৌসুমী বেগম, খাজা মিয়া, জয়নালকে রক্তাক্ত হাড়কাটা জখম এবং আংগুরী বেগমকে হাড়ভাঙ্গা জখম করে। এ সময় আসামী নাসরিন আহত মৌসুমী বেগমের গলায় থাকা ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ৬ আনা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে রেজু মিয়া আহত আংগুরী বেগমের পড়নের কাপড় টেনে খুলে ফেলে বিবস্ত্র করে শ্লীলতাহানি ঘটায়।

এদিকে আহতদের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামীরা খুন-জখমসহ নানা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আতোয়ারা বেগম ও ঘটনার স্বাক্ষীরা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করায়। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

এব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম নাজমুল হুদা জানান, উত্তর গিদারী বারটিকরী মধ্যপাড়া গ্রামে মারপিটের ঘটনায় মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।