জমা খারিজ নিয়ে অনৈতিক সুবিধা নিতে না পারায় নোয়াখালী সদরে হায়দার মিয়ারহাট ভুমি অফিসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুজব ছড়িয়েছে একটি মহল।
সদর উপজেলার ৬নং নোয়াখালী ইউনিয়নে হায়দার মিয়ারহাট বাজার সংলগ্ন হায়দার মিয়ারহাট ভুমি অফিস। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুমি অফিসের তহশিলদার আবদুল মতিনের ঘুষ দুর্নীতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার ঝড় উঠেছে। প্রকৃত ঘটনা জানতে সরেজমিনে গিয়ে জানাযায় বিষয়টি প্রকৃত ঘটনার বিপরীত।
প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে আবুল কাশেম তার জমির জমা খারিজের জন্য এডভোকেট উত্তম কুমার শীল মাধ্যমে সদর সহকারী ভুমি কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন। সেটা ভুমি কর্মকর্তার নির্দেশে হায়দার মিয়ারহাট ভুমি অফিসের তহশীলদার আবদুল মতিনের কাছে তদন্তে আসে। সেবা প্রত্যাশী আবুল কাশেমের দাগ নাম্বার ৬২৪৫ কিন্তু তার জমাখারিজে দাগ নাম্বার ৪২৪৫ করতে গেলে তহশীলদার তাকে ভুল সংশোধন করে আনতে পরামর্শ দেন। কারন এ দাগের জমিটি সরকারী সম্পত্তি এবং এটি অন্য ব্যক্তির নিকট সরকারী বন্দবস্ত আছে। হাসিমুখে আবেদন কারি কাশেম চলে যান। কিন্তু তার উকিল এডভোকেট উত্তর কুমার শীল তহশিলদারকে আজে বাজে কথা বলেন। পরে উকিল সাহেব জনাব কাশেমকে নিয়ম মেনে সংশোধন না করিয়ে কম্পিউটার দোকান থেকে সংশোধন লিখে অনৈতিক ভাবে জমাখারিজ করতে পাঠান। তহশিলদার আবেদনটি নিয়মের বর্হিভুত হওয়ায গ্রহন না করে তা আইনি প্রকৃয়ায় করতে পুনরায় অনুরোধ করে পরামর্শ দেন।
উকিল সাহেবের বিশেষ অনুরোধ আর চাপাচাপিতে বুঝতে কষ্ট হয়নি এখানে তহশিলদারকে দিয়ে অনৈতিক সুবিধা নিতে চেয়ে নিতে পারেননি এডভোকেট সাহেব। তাই তিনি স্থানীয় সাংবাদিককে ডেকে এনে ভুল তথ্য দিয়ে ভুল নিউজ পাবলিশ করেন।
এ বিষয়ে নোয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াছিন আরাফাত জানান, এ পর্যান্ত কোন সেবা প্রত্যাশী স্থানীয় চেয়ারম্যানকে এ বিষয়ে জানানি বা অভিযোগ করেননি। আর তহশিলদার কোন অনিয়ম করলে তা সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন। বিষয়টি পুর্নাঙ্গ না জেনে ঢালাও ভাবে কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করা উচিত না।
স্থানীয় খলিলপুর এলাকার মজিবুল হক কিরন জানান, আমি জানিনা তহশিলদার সাহেব কেমন তবে আমি কেনো আমাদের এলাকার কোন লোকের কাছে কখনো শুনিনাই তহশীলদার সাহেব কারো কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছে।
এ দিকে স্থানীয় বাজারের অনেক ও ব্যবসায়ী সেবা গ্রহিতা ঘুষের বিষয়টি সত্য নয় বলে জানান। তারা বলেন তহশিল অফিসে গেলে সবাই ভালো ব্যবহার দেয়। মৌজা বেশি হওয়াতে কারো কারো কাজ একটু বিলম্ব হতে পারে।
এ বিষয়ে তহশিলদার আবদুল মতিন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, এটা সম্পুর্ণ একটা ভুল বুজাবুঝি। কারো ভুল ধরিয়ে দেয়া কি অপরাধ এটা তো গ্রাহকের লাভ। এটা সাংবাদিক সাহেব আর উকিল সাহেবের ভুল বুজা ছাড়া আর কিছুই না। একজন সাংবাদিক সাহেব আমাদের অফিসে আসেন আমি ব্যস্থতার মধ্যে ও চা আপ্যায়ন করি এবং সম্মান দেখাই। কিন্তু তিনি কোন কিছু প্রশ্ন না করে কোন কিছু জানতে না চেয়ে আমার বক্তব্য ভিডিও রেকর্ড করতে চান। আমি উদ্ধতন কর্মকর্তার আদেশ না নিয়ে বক্তব্য রেকর্ড দিছে চাইনি। সাংবাদিক চলে যান। এটাই আসলে ব্যস্থতার কারনে উনি হয়তো ভুল বুজেছেন।
ভিডিওতে প্রচারিত টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে মতিন জানান, বিগত ১ বছর পুর্বে কোন একটা মসজিদের চলমান কাজের সহায়তা বাবত ৩ হাজার টাকা প্রদান করেন তিনি। আর কে বা কারা সেটাকে হীন উদ্দেশ্য ভিডিও করে। আমি আমার দায়িত্ব পালন কালে কাউকে অনৈতিক সুবিধা ভোগ করতে দিই নাই। স্বার্থান্বেষী মহল অবৈধ যারা সুবিধা নিতে পারেননি তারাই তার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের করছে । তারা তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে এই অপতৎপরতা চালাচ্ছেন বলে দাবি করছেন । এটাও ভুল তথ্য। মোটকথা এরা উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে সাংবাদিক সাহেবকে ভুল তথ্য দিয়েছেন।
এ বিষয় সহকারী কমিশনার (ভুমি) শাহনেওয়াজ তানভীর জানান, বিষয়টি পুর্ণ বিশ্লেষণ না করে একজন সাংবাদিক সংক্ষিপ্ত আমার বক্তব্য জানতে চান। আমি বলেছি কেউ যদি লিখিত অভিযোগ করলে নিয়ম অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
ভুল সংশোধন করতে বলায় তহশিলদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুজব