জামালপুরের ইসলামপুরে স্থানান্তরের আবেদন না করেও জালিয়াতির মাধ্যমে সম্ভাব্য ইউপি সদস্য প্রার্থী নূরনবী শেখ ও তাঁর ভাই মিলন শেখের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে মেলান্দহ উপজেলায় নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ভোটার এলাকা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কার্যালয়। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

অভিযোগকারী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইসলামপুর উপজেলার চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের পূর্ব কান্দারচর গ্রামের বাসিন্দা নূরনবী শেখ ও তাঁর ভাই মিলন শেখ। তাঁদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করে আসছে। নূরনবী শেখ ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সাধারণ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে তিনি আবারও সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ভোটার তালিকা যাচাই করতে গিয়ে সম্প্রতি নূরনবী জানতে পারেন, তাঁর এবং তাঁর ভাইয়ের ভোটার এলাকা ইসলামপুর থেকে পরিবর্তন করে মেলান্দহ উপজেলায় নেওয়া হয়েছে।

মেলান্দহ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুলাই নূরনবী শেখ ও মিলন শেখের ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করা হয়। পরে ২৫ আগস্ট আবেদনগুলো ইসলামপুর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে পাঠানো হয়। অনুমোদনের পর নূরনবী শেখের ভোটার এলাকা মেলান্দহ উপজেলার দুরমুঠ ইউনিয়নের হাতিজা গ্রামে এবং মিলন শেখের ভোটার এলাকা জাঙ্গালিয়া গ্রামে স্থানান্তর করা হয়।

নূরনবী শেখের অভিযোগ, তিনি বা তাঁর ভাই ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য কোনো আবেদন করেননি। তাঁকে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে স্থানীয় একটি চক্র অর্থের বিনিময়ে জাল কাগজপত্র তৈরি করে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছে।

তিনি বলেন, “আমার পূর্বপুরুষদের বসবাস ইসলামপুর উপজেলার পূর্ব কান্দারচর গ্রামে। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সাধারণ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। এবারও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এর মধ্যে জানতে পারি, আমার ও আমার ভাইয়ের ভোটার এলাকা অন্য উপজেলায় স্থানান্তর করা হয়েছে।”

মিলন শেখও ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য তিনি কোনো আবেদন করেননি বলে দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, ভাইয়ের প্রার্থিতা বাধাগ্রস্ত করতে পরিকল্পিতভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে এ কাজ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারাও নূরনবী শেখ ও মিলন শেখের ভোটার এলাকা পুনরায় চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁদের ভোটাধিকার ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, “ভোটার এলাকা স্থানান্তরের যাবতীয় কাজ মেলান্দহ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সম্পন্ন করেছে। আমরা শুধু অনুমোদন দিয়েছি।”

মেলান্দহ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, “আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামপুরের বাসিন্দা দুই ব্যক্তির ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে মেলান্দহে স্থানান্তর করা হয়েছিল। পরে জানতে পেরেছি, একটি চক্র জালিয়াতির মাধ্যমে ভোটার স্থানান্তরের আবেদন করেছিল। তখন বিষয়টি আমরা বুঝতে পারিনি।”

তিনি আরও বলেন, ভোটার এলাকা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

তবে কারা জাল আবেদন করেছে এবং কীভাবে আবেদনগুলো প্রক্রিয়ায় অনুমোদন পেয়েছে, সে বিষয়ে তদন্তের ফলাফল এখনো জানা যায়নি।