ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান এখনো সমাপ্ত হয়নি বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির মধ্যেও অভিযানের লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

শনিবার (১১ এপ্রিল) এক ভিডিওবার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, “ইরানে আমাদের অভিযান এখনও শেষ হয়নি। সামনে আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত যে অগ্রগতি হয়েছে, তা ঐতিহাসিক।” হিব্রু ভাষায় দেওয়া এই বার্তায় তিনি অভিযানের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।

Advertisement

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দাবি, ইরান দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল, যা ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। তিনি বলেন, “যদি তারা সেই সক্ষমতা অর্জন করত, তাহলে বিপুল পরিমাণ পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন সম্ভব হতো—যা আমাদের অস্তিত্বকেই ঝুঁকির মুখে ফেলত।”

নেতানিয়াহু আরও অভিযোগ করেন, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ভূগর্ভে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, যাতে তা আন্তর্জাতিক হামলার বাইরে থাকে। এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল ‘নিষ্ক্রিয় থাকতে পারেনি’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

গত কয়েক দশক ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা চলমান। সাম্প্রতিক সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে ফেব্রুয়ারির শেষদিকে, যখন যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান শুরু করে এবং একই সময় ইসরায়েল পৃথক অভিযান চালায়। ওই সংঘাতের প্রথম দিনেই নিহত হন খামেনি—যা আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

পরবর্তীতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ইসলামাবাদে সংলাপ শুরু হয়। তবে সেই আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে।

নেতানিয়াহু তার বক্তব্যে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) অর্জনের কথাও উল্লেখ করেন এবং বলেন, ইরানে এখনো সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, “ইরানকে হয় আলোচনার মাধ্যমে এই উপাদান সরাতে হবে, নয়তো অন্য উপায়ে তা অপসারণ করা হবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি। বরং সামরিক ও কূটনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তা আরও গভীর হচ্ছে।